Stock news
৬ লাইফ ইন্সুরেন্সে লালবাতি, বিপদে লাখ লাখ গ্রাহক
দেশের বিমা খাতে চরম আর্থিক বিশৃঙ্খলা ও আস্থার সংকট নজিরবিহীন রূপ নিয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশের ছয়টি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ‘লাইফ ফান্ড’ বা জীবন তহবিল ঋণাত্মক (নেগেটিভ) পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও আশঙ্কাজনক সংকটে পড়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে বিমা খাতের এই দেউলিয়া ও ভঙ্গুর চিত্র উঠে এসেছে।
বিমা খাতের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ‘লাইফ ফান্ড’ হলো গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত প্রিমিয়ামের সেই সংরক্ষিত অংশ, যা দিয়ে ভবিষ্যতে গ্রাহকের বিমা দাবির টাকা মেটানো হয়। কোনো কোম্পানির লাইফ ফান্ড ঋণাত্মক হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো—প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক মূলভিত্তি চরম ঝুঁকিতে পড়েছে এবং মেয়াদ শেষে গ্রাহকের পাওনা টাকা পরিশোধ করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ বা সম্পদ তাদের হাতে নেই।
আইডিআরএ-এর হিসাব অনুযায়ী, ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এককভাবে সবচেয়ে বড় ঘাটতিতে রয়েছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির লাইফ ফান্ডে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১,১২০ কোটি টাকা (১১.২ বিলিয়ন টাকা)। অন্যান্য পাঁচটি সংকটাপন্ন কোম্পানির মধ্যে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ৩২৭ কোটি টাকা, বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ৫৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা, শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ১৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা এবং যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ৯৪ লাখ টাকার ঘাটতি রয়েছে।