ডিসেম্বরে স্ক্রিপ্ট নিটিং ও টি+১ চালুর পরিকল্পনা ডিএসইর

Date: 2026-09-22 14:00:04
ডিসেম্বরে স্ক্রিপ্ট নিটিং ও টি+১ চালুর পরিকল্পনা ডিএসইর
পুঁজিবাজারে স্ক্রিপ্ট নিটিং ও টি+১ ব্যবস্থা চালুর কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ দুটি ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছে ডিএসই। পাশাপাশি আর্থিক ডেরিভেটিভস চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে, যা ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে চালুর লক্ষ্য রয়েছে।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ডিএসইতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক।‎ডিসেম্বরে স্ক্রিপ্ট নিটিং ও টি+১ চালুর লক্ষ্য ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।তিনি বলেন, স্ক্রিপ্ট নিটিং ও টি+১ ব্যবস্থা চালুর কাজ শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিএসইসির যথেষ্ট সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দুটি ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নতুন পণ্য ও ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা এবং বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।‎২০২৮ সালের জানুয়ারিতে আর্থিক ডেরিভেটিভস চালুর লক্ষ্য‎আর্থিক ডেরিভেটিভস চালুর বিষয়ে বিএসইসির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে নুজহাত আনোয়ার বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কিছু নির্দেশনা পাওয়া গেছে। তবে ডেরিভেটিভস চালুর আগে বাজারে সচেতনতা ও আর্থিক সাক্ষরতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা হালনাগাদ করতে হবে। এসব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে আর্থিক ডেরিভেটিভস চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।‎শিল্প খাতের শ্রেণিবিন্যাসের কাজ শেষ পর্যায়ে‎ডিএসইর শিল্প খাতের শ্রেণিবিন্যাস ও শ্রেণীকরণ নিয়েও কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ‎তিনি বলেন, এ বিষয়ে ডিএসই বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে বিএসইসির সঙ্গে তা শেয়ার করা হবে। কমিশনের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হবে।‎তিনি আরও বলেন, নতুন কোনো নিয়ম বা পণ্য চালুর ক্ষেত্রে বাজারের স্বাভাবিক গতি যাতে ব্যাহত না হয় এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত থাকে, সেসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই ডিএসই কাজ করছে।‎‎মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য আলাদা প্ল্যাটফর্ম‎ওপেন-এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য আলাদা একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান ডিএসইর এমডি। ‎তিনি বলেন, বিএসইসির বর্তমান নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য একটি পৃথক মডিউল তৈরি করা হচ্ছে। আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি এটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন মিউচুয়াল ফান্ড কিনতে এবং রিডিম করতে পারবেন। এর ফলে মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন আরও সহজ হওয়ার পাশাপাশি বাজারে শৃঙ্খলা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে বলে জানান তিনি।‎‎বন্ডে ইস্যু খরচ কমেছে ৮০ শতাংশ‎‎বন্ড মার্কেটের উন্নয়নেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে বিভিন্ন মূল্য ও চার্জ প্রায় ৮০ শতাংশ কমানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।‎নুজহাত আনোয়ার বলেন, বিএসইসি চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় বন্ড মার্কেট উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বাজারে আসা বন্ডগুলো যাতে মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত হয়, সে বিষয়ে বিএসইসির পক্ষ থেকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‎তিনি বলেন, এ উদ্যোগে বাজার থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা হয়েছে এবং কিছু বন্ড মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বন্ডে আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সেকেন্ডারি মার্কেটে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যাতে বন্ডের লেনদেন বাড়াতে পারেন, সে বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।‎২০২৮ সালের জানুয়ারিতে নতুন ম্যাচিং ইঞ্জিন‎ডিএসইর প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নেও বড় ধরনের কাজ চলছে বলে জানান নুজহাত আনোয়ার। ‎নাসডাকের নতুন সফটওয়্যারভিত্তিক ম্যাচিং ইঞ্জিন চালুর প্রকল্প ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে এটি চালু করার লক্ষ্য রয়েছে। ‎ডিএসইর এমডি বলেন, এটি একটি বড় প্রকল্প। এর প্রকল্প ব্যবস্থাপনার কাজ এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে।এ ছাড়া ডিএসইর দুর্যোগ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা ডিসেম্বরের মধ্যে হালনাগাদ করার চেষ্টা চলছে। পুঁজিবাজারের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোকে আরও জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ করতে প্রয়োজনীয় অন্যান্য সফটওয়্যার উন্নয়নেও জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

Share this news