Skip to content
Latest stories

Stock news

মূল্যস্ফীতির বাজে প্রভাব এশিয়ার বাজারে

বিশ্ব মহামারী করোনার ভয়াল থাবায় দুই বছর ধরে বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা বেহাল। এ বিপর্যয় থেকে যখন পৃথিবী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে তখন এশিয়ার বাজারগুলো অন্য রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। আর সেটি হলো বাজারগুলোর ওপর মূল্যস্ফীতি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক সংকোচন নীতির প্রভাব; যার কারণে চীন, জাপান থেকে শুরু করে ভারত, সিঙ্গাপুর পর্যন্ত দেশগুলোর বাজার নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছে। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার দ্রুত বাড়ানোর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এশিয়ার দেশ জাপানের মুদ্রা ইয়েন। বৃহৎ অর্থনীতি ও প্রধান মুদ্রাগুলোর মধ্যে ডলারের বিপরীতে মান কমার দিক থেকে ইয়েন শীর্ষে। একই সময়ে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ও প্রাক্কলিত অর্থনৈতিক মন্দার কারণে এশিয়া অঞ্চলের হাই-টেক সেক্টরের শেয়ারমূল্য উল্লেখযোগ্য মাত্রায় হ্রাস পেয়েছে। স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি এর প্রত্যক্ষ উদাহরণ।অন্যদিকে বেশ কয়েকটি দেশ ও কিছু খাত নতুন বাজারের পরিবেশে ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। জাপানে চলতি বছর পুঁজিবাজারের কার্যকলাপ শেষ হয়েছে গত সপ্তাহে ব্যাংক অব জাপানের সম্প্রসারণের চমকপ্রদ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে। এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশটিতে ইয়েনের মান বেড়েছে।বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রাক্কলন ও অর্থনীতি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ লয়েড চ্যান সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এশিয়ার বৈদেশিক মুদ্রা বাজার (ফরেক্স) মার্কিন ডলারের বিপরীতে একটি চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে। বিশেষ করে জাপানি ইয়েন।’Nogod-22-10-2022অন্যদিকে সিঙ্গাপুরের ডলার ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মার্কিন ডলারের বিপরীতে মাত্র দশমিক ১৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ২০২১ সালের অক্টোবরের পর পঞ্চমবারের মতো চলতি বছরের অক্টোবরে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি চালু করে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এশিয়ার অধিকাংশ দেশে সরকারি বন্ডের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী পণ্যদ্রব্য সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। ইউক্রেন শস্যের প্রধান রফতানিকারক এবং রাশিয়া তেল ও গ্যাসের প্রধান রফতানিকারক। যুদ্ধ শুরুর পর এ দুই দেশ থেকে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় গম ও তেলের দাম বেড়ে যায়। যা এশিয়া অঞ্চলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জনজীবনকে প্রভাবিত করে।অতিপ্রয়োজনীয় জ্বালানি, খাদ্য এবং ধাতব পণ্যের মূল্য চলতি বছরের মাঝামাঝি থেকে হ্রাস পেতে শুরু করেছে। ইউক্রেন থেকে শস্যের রফতানি পুনরায় শুরু হওয়ার কারণে বাজারদর যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে এসেছে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার সম্ভাবনাও বছরের শেষ দিকে বাজারের দামের ওপর প্রভাব বজায় রেখেছে।২০২২ সালে এশিয়ার অধিকাংশ জায়ান্ট কোম্পানির শেয়ার মূল্য কমেছে। চীনের টেনসেন্ট হোল্ডিংস ও আলিবাবা গ্রুপ হোল্ডিংয়ের শেয়ারমূল্য কমেছে যথাক্রমে ২৮ ও ২৯ শতাংশ। যখন দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শেয়ারমূল্য চলতি বছরের ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৬ শতাংশ কমেছে। এছাড়া একই সময়ে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টার নির্মাতা কোম্পানি টিএসএমসির শেয়ারমূল্য কমেছে ২৫ শতাংশ।কভিড মহামারীর সময় যেসব কোম্পানি ক্ষতির মুখে ছিল, তাদের জন্য এ বছর অত্যন্ত কঠিন সময় ছিল। সিঙ্গাপুরভিত্তিক ই-কমার্স ও অনলাইন গেমিং গ্রুপ সি লিমিটেডের শেয়ারমূল্য কমেছে ৭৭ শতাংশ। লাভের মধ্যে ছিল পণ্যদ্রব্য সম্পর্কিত কোম্পানিগুলো। যেমন জাপানের তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি ইনপেক্সের শেয়ারমূল্য বেড়েছে ৪০ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়ার ব্যাংক সেন্ট্রাল এশিয়ার সুদের হার ১৯ শতাংশ বেড়েছে। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস ও জাপানের অ্যানা হোল্ডিংসের মতো এয়ারলাইনসের শেয়ারের মূল্যও দুই অঙ্কের রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে।এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, সিঙ্গাপুর বিশ্বমন্দার মধ্যে স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। চলতি বছর বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজার সামগ্রিকভাবে নিম্নমুখী হয়েছে, কিন্তু এশিয়ার প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে ভারতের বেঞ্চমার্ক সেনসেক্স পুঁজিবাজারের শেয়ারের মূল্যসূচক ভালো অবস্থানে আছে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সর্বশেষ অর্থনৈতিক প্রাক্কলনমতে, ২০২৩ সালে ভারতের অর্থনীতি ৭ দশমিক ২ শতাংশ বাড়বে। আর সিঙ্গাপুরের স্ট্রেইটস টাইমসের সূচক বেড়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ।সামগ্রিকভাবে ২০২১ সালের শেষের দিকে শুরু হওয়া শেয়ারবাজারের মন্দা ২০২২ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এশিয়ায় বেশির ভাগ শেয়ারের মূল্যসূচক কমেছে। হাই-টেক শিল্পনির্ভর দেশগুলোর শেয়ারবাজার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি ও তাইওয়ানের তাইয়েক্সের শেয়ারমূল্য প্রায় ২২ শতাংশ কমেছে।

Share this story

Android app Stock News BD The same market briefs, formatted for your phone. Google Play