মিউচুয়াল ফান্ডের কাস্টডিয়ান হিসেবে অনুমোদন পেল সিডিবিএল

Date: 2026-09-23 06:00:04
মিউচুয়াল ফান্ডের কাস্টডিয়ান হিসেবে অনুমোদন পেল সিডিবিএল
মিউচুয়াল ফান্ডের কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করার অনুমোদন পেয়েছে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)। পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চলতি সপ্তাহে এ বিষয়ে সিডিবিএলকে সম্মতিপত্র দিয়েছে। এত দিন মূলত ডিপোজিটরি সেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটি এখন মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদ সংরক্ষণ, হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং লেনদেন পরিচালনার দায়িত্বও নিতে পারবে।সিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল মোতালেব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সম্মিলিত তহবিলের ইউনিটধারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করবে সিডিবিএল। তিনি জানান, কয়েকটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান তাদের পরিচালিত মিউচুয়াল ফান্ডের কাস্টডিয়ান হিসেবে সিডিবিএলকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছে।মিউচুয়াল ফান্ডের কাস্টডিয়ানদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন ওঠার মধ্যেই সিডিবিএলকে এ অনুমোদন দেওয়া হলো। ফান্ড ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও জালিয়াতি ঠেকাতে কাস্টডিয়ানদের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে এর আগে অভিযোগ ও আলোচনা হয়েছে। সংশোধিত মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালায় কাস্টডিয়ানদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, ফান্ডের সম্পদ নিরাপদে সংরক্ষণের পাশাপাশি ইউনিটধারী ও ফান্ডের হিসাব সংরক্ষণ এবং ব্যাংকিং লেনদেন পরিচালনার দায়িত্বও কাস্টডিয়ানের ওপর দেওয়া হয়েছে।সর্বশেষ মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান একই ফান্ড ব্যবস্থাপনায় একাধিক ভূমিকা পালন করতে পারবে না। বর্তমানে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশসহ (আইসিবি) কয়েকটি প্রতিষ্ঠান একই সঙ্গে ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ানের দায়িত্ব পালন করছে।নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের পরিধি কমাতে হবে। ফলে ভবিষ্যতে কাস্টডিয়ান হিসেবে সিডিবিএল এসব ফান্ডের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।সিডিবিএলের নতুন ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার পেছনে আর্থিক বিষয়ও রয়েছে। পুঁজিবাজারে লেনদেন কমে যাওয়ায় সিকিউরিটিজ নিষ্পত্তি থেকে প্রতিষ্ঠানটির আয় কমেছে। তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের প্রতি ১০ লাখ টাকা লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য সিডিবিএল ২৫ টাকা করে পায়। ফলে বাজারে দৈনিক লেনদেন কমে গেলে এ খাত থেকে প্রতিষ্ঠানটির আয়ও কমে যায়।এর পাশাপাশি বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফিও কমানো হয়েছে। প্রতিটি বিও হিসাবের বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ফি ১০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা করা হয়েছে। এতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ থেকে সিডিবিএলের আয় আগের বছরের ১৩ কোটি টাকার বেশি থেকে কমে প্রায় ৭ কোটি টাকায় নেমে আসে।সব মিলিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সিডিবিএলের পরিচালন মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশের বেশি কমে ৫২ কোটি ২০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। হারানো আয় পুষিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানটি নতুন ব্যবসার সুযোগ খুঁজছে।মিউচুয়াল ফান্ডে কাস্টডিয়ানদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনার অন্যতম বড় ঘটনা ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশনসের (ইউএফএস) পরিচালিত তিনটি ওপেন-এন্ডেড ফান্ড থেকে ২০ কোটি ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।এসব ফান্ডের কাস্টডিয়ান ছিল আইসিবি। অভিযোগ অনুযায়ী, কাস্টডিয়ানের পক্ষ থেকে কার্যকর বাধা ছাড়াই ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। ইউএফএসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হামজা আলমগীর ২০২২ সালের অক্টোবরে ওই অর্থ নিয়ে দুবাই চলে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এর পরিপ্রেক্ষিতে কাস্টডিয়ানদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। কাস্টডিয়ানদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আগের বিধিমালায় তাদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা এমনভাবে নির্ধারিত ছিল না, যাতে সম্মিলিত তহবিলে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ যথাযথভাবে সুরক্ষা করা সম্ভব হয়।গত বছরের শেষ দিকে ৬০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের কাস্টডিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ব্র্যাক ব্যাংকও বিপুলসংখ্যক ফান্ডের কাস্টডিয়ানশিপ থেকে সরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল।ব্যাংকটির বক্তব্য ছিল, ফান্ড ব্যবস্থাপনায় কাস্টডিয়ানের পর্যাপ্ত কর্তৃত্ব না থাকায় এ দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করা কঠিন। আগের ব্যবস্থায় অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলোর কেনা সম্পদ নিরাপদে সংরক্ষণ নিশ্চিত করাই ছিল কাস্টডিয়ানের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। নগদ অর্থ ও লেনদেনের নিয়ন্ত্রণ মূলত অ্যাসেট ম্যানেজারদের হাতে থাকত। সংশোধিত মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা কার্যকর হওয়ার পর কাস্টডিয়ানদের ব্যাংকিং লেনদেন তদারকির ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।সিডিবিএল ২০০০ সালের আগস্টে প্রতিষ্ঠিত হয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহযোগিতায় দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, আইসিবি, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এটি গঠিত হয়।সিডিবিএলের কর্মকর্তারা জানান, দক্ষ কাস্টডিয়ান সেবার ঘাটতি থাকায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রতিষ্ঠানটিকে এ নতুন দায়িত্ব নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছে। বর্তমানে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৬৮টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, ১৩৬টি মিউচুয়াল ফান্ড, ৯টি ট্রাস্টি এবং ৯টি কাস্টডিয়ান রয়েছে। সিডিবিএলকে অনুমোদন দেওয়ার ফলে কাস্টডিয়ানের সংখ্যা বেড়ে ১০টিতে দাঁড়াবে।

Share this news