Skip to content
Latest stories

Stock news

ক্রিপ্টোকারেন্সির সুদিন কি আবার ফিরছে

নতুন বছরের শুরুতে আবারও দাম বাড়তে শুরু করেছে ক্রিপ্টোকারেন্সির। জানুয়ারি মাসে বিশ্বের শীর্ষ ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের দাম বেড়েছে ২৬ শতাংশ। গত এক সপ্তাহেই বেড়েছে ২২ শতাংশ। আজ সকালে এই প্রতিবেদন লেখার সময় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের দাম ছিল ২১ হাজার ৩১২ ডলার। একই সঙ্গে আরেক ক্রিপ্টোকারেন্সি ইথারের দামও বেড়েছে। এ বছরেই ইথারের দাম বেড়েছে ২৯ শতাংশ। কয়েনগেকোর তথ্যানুসারে, সামগ্রিকভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজার ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।বিশ্লেষকেরা বলছেন, এক বছর খারাপ সময় যাওয়ার পর ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজার আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। একধরনের প্রত্যাবর্তন ঘটছে ক্রিপ্টোকারেন্সির। গত বছর ডলার তেজি হতে শুরু করলে ক্রিপ্টোকারেন্সি মান হারায়। কিন্তু এখন ডলারের দর স্থিতিশীল হয়ে আসায় আবারও ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগ বাড়ছে।গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সোলানা ব্লকচেইন নিয়ে আসে বঙ্ক নামের নতুন এক ক্রিপ্টোকারেন্সি। এ বছর সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে এই বঙ্কের। এ মাসের শুরুতে এর দাম বেড়েছে ৫ হাজার শতাংশ। তারপর দাম কিছুটা কমলেও এখনো তার দাম বছরের শুরুর তুলনায় ৯১০ শতাংশ বেশি।বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজার সব ক্ষেত্রেই অগ্রগামী। এখন যে তা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, তার কারণ হিসেবে বিশ্লেষকেরা মনে করেন, মূল্যস্ফীতির হার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে এখন যে আর ফেডারেল রিজার্ভসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নীতি সুদহার তেমন একটা বাড়াবে না, সেই আন্দাজ থেকেই বিনিয়োগকারীরা ক্রিপ্টোর বাজারে আসতে শুরু করেছেন। প্রধান বিটকয়েন এক্সচেঞ্জগুলোতে বিটকয়েন লেনদেনের আর্থিক মূল্য গত ৭ দিনে ১৫ কোটি ১০ লাখ ডলারে উঠেছে। ব্লকচেইন ডট কমের তথ্যানুসারে, গত দুই মাসের মধ্যে এটা সর্বোচ্চ।তবে বাজার-সংশ্লিষ্ট মানুষেরা মনে করছেন, এখনই অত উল্লসিত হওয়ার কারণ নেই। কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের পরিমাণ এখনো অনেক কম এবং সেই সঙ্গে সামষ্টিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। ফলে ক্রিপ্টোকারেন্সির সুদিন আবারও ফিরছে, এমন কথা বলার সময় হয়নি।বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছে, নীতি সুদ বৃদ্ধির হার বাজারের প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে বিটকয়েনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের দাম বাড়বে। কিন্তু বাজার এই মুহূর্তে নানা ধরনের অনিশ্চয়তায় পরিপূর্ণ।স্ট্যাটিসটা ডট কমের তথ্যানুসারে, ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে বিটকয়েনের দাম ছিল ১৩৫ দশমিক ৩ ডলার। ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে যা সর্বোচ্চ ৬১ হাজার ৮৩৭ ডলারে উঠেছিল।ক্রিপ্টোকারেন্সি হচ্ছে ডিজিটাল মুদ্রা। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইস্যু করা মুদ্রার সঙ্গে এর পার্থক্য হলো, এর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেই। এটি স্বতন্ত্র এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সে জন্য অনেক দেশ ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার অনুমোদন করে না।বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের বৈধতা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কয়েকবার এ নিয়ে সতর্ক করেছে। তারা বলেছে, ক্রিপ্টোকারেন্সি, যেমন বিটকয়েন, ইথেরিয়াম, রিপল ও লাইটকয়েন—এসব ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা কোনো দেশের বৈধ কর্তৃপক্ষ ইস্যু করে না। ফলে এ মুদ্রার বিপরীতে কোনো আর্থিক দাবি স্বীকৃত নয়। এসব মুদ্রায় লেনদেন বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুমোদন করে না।সে কারণে এর ব্যবহার বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭; সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এ সমর্থিত নয়। অনলাইনে নামবিহীন বা ছদ্মনামধারী প্রতি সঙ্গীর সঙ্গে লেনদেনে অনিচ্ছাকৃতভাবে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধবিষয়ক আইন লঙ্ঘন হতে পারে।

Share this story

Android app Stock News BD The same market briefs, formatted for your phone. Google Play