সতর্ক করা ৫ শেয়ারের চারটিরই দরপতন

পুঁজিবাজারে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার বড় দরপতন হয়েছে। এদিন মূল্যসূচকপতনের পাশাপাশি লেনদেন হওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে। অন্যদিকে আজ মঙ্গলবার আগের দুইদিন ডিএসইর সতর্কবার্তা দেওয়া পাঁচ শেয়ারের চারটিরই দরপতন হয়েছে।আজ মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।জানা যায়, আজ ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইক্স সূচক ৪০ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ৩১৬ পয়েন্টে পয়েন্টে নেমে আসে।লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৫৭টি কোম্পানির দর কমেছে, বেড়েছে ২৫টির ও অপরিবর্তীতি ছিল ১৮২টি কোম্পানির শেয়ার দর।আজ ডিএসইতে টাকার অংকে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। আগের কার্যদিবস সোমবার লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা।এদিকে আজ ডিএসইর সতর্কতার নোটিশ দেওয়া পাঁচ কোম্পানির চারটিরই দরপতন হয়েছে। যেসব কোম্পানির শেয়ার অস্বাভাবিক বাড়ার ফলে সতর্কতার নোটিশ দেওয়া হয় সেগুলো হলো- পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড,ফাইন ফুডস ও ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড। এর মধ্যে কেবল মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে। বাকি চারটির দরপতন হয়েছে।বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অস্বাভাবিক দর বাড়ায় ডিএসইর পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়ার পর এসব শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে। যার ফলে এসব শেয়ারের দরপতন হয়েছে।আগের দুই কার্যদিবসে গত সাত মাসের সর্বোচ্চ লেনদেন হওয়ার পর আজ মঙ্গলবার লেনদেন কমেছে। তবুও হাজার কোটি টাকার উপরে লেনদেন হয়েছে।জাতীয় সংসদে গত বৃহস্পতিবার ২০২৩–২৪ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারের বাজেটে শেয়ারবাজারে আগের বছর যেসব সুবিধা বিদ্যমান ছিল, তার কোনো পরিবর্তন হয়নি। আর নতুন করে কোনো সুবিধা যোগ হয়নি।বাজার–সংশ্লিষ্টরা বলেন, বাজেটে শেয়ারবাজার নিয়ে খারাপ কিছু নেই। এখবরেই বিনিয়োগকারীরা আশ্বস্ত হন। অথচ বাজেটের আগে শোনা বাজারে ছড়িয়ে পড়ে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে করদাতা বিনিয়োগজনিত যে কর রেয়াত সুবিধা পেতেন, তা তুলে নেওয়া হবে। কিন্তু সেটি হয়নি। এ কারণে নিষ্ক্রিয় অনেক বিনিয়োগকারী ফের বাজারে সক্রিয় হন। ফলে বাজেটের পর শেয়ারবাজারে লেনদেনে নতুন করে গতি সঞ্চার হয়েছে।আজ ঢাকার বাজারে টপটেন গেইনারের শীর্ষে ছিল ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল টি, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস ইন্ডাস্ট্রিজ, ফোনিক্স ফিন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, বঙ্গজ, বিজিআইসি, ও ন্যাশনাল টিউবস।আর টপটেন লুজারে ছিল- মির আকতার, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, অগ্নি সিস্টেম, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স, বেঙ্গল উইন্ডসোর, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স, লুব রেফ বাংলাদেশ, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স ও মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ।আজ সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া দশ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে, অ্যাসোসিয়েট অক্সিজেন লিমিটেড, ইন্ট্রাকো রিফ্যুয়েলিং, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, আরডি ফুড, বিএসসি, রূপালী লাইফ, লুব রেফ বাংলাদেশ, জেমিনি সি ফুড, অগ্নি সিস্টেম ও আমরা নেটওয়ার্ক।এদিকে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেডকে ৫০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যুর অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সম্প্রতি কোম্পানিটিকে এই বন্ড ইস্যুর অনুমতি পায়।জানা গেছে, কোম্পানির বন্ডের এই অর্থ দিয়ে ৫টি এলপিজি অটো গ্যাস স্টেশন, ৫টি সিএনজি স্টেশন, ৩টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং বাকি ৪০ শতাংশ অর্থ ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসাবে ব্যবহার করবে।আজ পুঁজিবাজারের মূল মার্কেটে ইন্ট্রাকো লিফ্যুয়েলিংয়ের ৪৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা সর্বোচ্চ লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে ছিল।আর এই খবর প্রকাশের আগেই কোম্পানিটির দর কিন্তু গত মে মাস থেকে বাড়তে থাকে। গত ৭ মে ইন্ট্রাকো রিফ্যুয়েলিংয়ের শেয়ার দর ছিল ৩৫ টাকা ৬০ পয়সা। এপর টানা বেড়ে গতকাল ৫ জুন তা ৫২ টাকা ৪০ পয়সায় উঠে যায়। আজ দর কিছুটা কমে ৪৯ টাকা ৭০ পয়সায় দাঁড়ায়।এদিকে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া কোম্পানির শীর্ষে ছিল অ্যাসোসিয়েট অক্সিজেন। কোম্পানিটির হঠাৎ করে কেন বড় ধরনের লেনদেন হলো তার কোনো কারণ জানা যায়নি। আজ কোম্পানিটির ৫২ কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।আজ কোম্পানিটির দর ফ্লোর প্রাইস ৩৬ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়।এর আগে ২০২০ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরই অ্যাসোসিয়েট অক্সিজেন লিমিটেডের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ২ সদস্যের কমিটিকে কোম্পানিটির শেয়ার দর বৃদ্ধিতে ম্যানুপুলেশন, ইনসাইডার ট্রেডিংসহ অন্যান্য কারণ খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছিল কমিশন।