শেয়ারবাজার স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে সাড়া নেই তালিকাভুক্ত কোম্পানির

Date: 2022-09-13 01:25:43
শেয়ারবাজার স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে সাড়া নেই তালিকাভুক্ত কোম্পানির
শেয়ারবাজারে তারল্য বাড়াতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত বছরের ২২ আগস্ট ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’ (সিএমএসএফ) গঠন করেছে। বিভিন্ন কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের অবণ্টিত বা অদাবিকৃত ডিভিডেন্ডের (ক্যাশ ও বোনাস) সমন্বয়ে এই তহবিল গঠন করা হয়।প্রাথমিকভাবে ফান্ডটির আকার ধরা হয়েছিল ২০ হাজার কোটি টাকা। পরে এই তহবিলের আকার আরও বাড়ানো হতে পারে জানায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। কিন্তু বিএসইসির আহ্বানে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ কোম্পানিই সাড়া দেয়নি।এরপর নিয়ন্ত্রক সংস্থা তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বার বার তাগাদা দিতে থাকে। এক পর্যায়ে সর্বশেষ সময়সীমাও বেঁধে দেয়। সে সীমাও শেষ হয়েছে গত ৩১ জুলাই। তারপরও তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর অবণ্টিত ডিভিডেন্ড সিএমএসএফে জমাদানে কাঙ্খিত সাড়া মেলেনি।জানতে চাইলে সিএমএসএফের চিফ অপারেশন অফিসার (সিওও) মনোয়ার হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, গত এক বছরের সিএমএসএফ ফান্ডের নগদ ও বোনাস ডিভিডেন্ড বাবদ ১ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা জমা হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাশ ডিভিডেন্ড বাবদ এসেছে ৪৮৩ কোটি টাকা। আর বোনাস ডিভিডেন্ড বাবদ এসেছে ৭১০ কোটি টাকা।’সিএমএসএফের ইনভেস্টর ক্লেইম সেটেলমেন্ট, অ্যাকাউন্টস ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিনের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকা সাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রথম গত বছরের আগস্টের ২৪ তারিখ থেকে টাকা পাওয়া শুরু করি। ১৫ মার্চ আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করে সেটেলমেন্ট শুরু করি। এরপর থেকে ধাপে ধাপে ৬টি সেটেলমেন্টে আমরা টাকা পেতে থাকি। সর্বশেষ ষষ্ঠ সেটেলমেন্টে আমরা ৭০ লাখ টাকা পেয়েছি।’তিনি জানান, সবশেষ ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিএমএসএফে ক্যাশ ডিভিডেন্ড বাবদ এসেছে ৪৮৩ কোটি টাকা ও বোনাস ডিভিডেন্ড বাবদ এসেছে ৭১০ কোটি টাকা। সে হিসেবে ক্যাশ ও বোনাস ডিভিডেন্ড বাবদ সর্বমোট ১ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা জমা হয়েছে। এর মধ্যে বোনাস ডিভিডেন্ড বাবদ ৪ কোটি শেয়ারের বর্তমান বাজারদর ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে।এদিকে সংগৃহীত অর্থ থেকে ইতোমধ্যে ২২৫ কোটি টাকা ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) দেয়া হয়েছে। গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য দেয়া হয়েছে ৫০ কোটি টাকা।এছাড়া বিনিয়োগকারীদের দাবি নিষ্পত্তি সিএমএসএফের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ফান্ডটির কার্যক্রম শুরুর পর থেকে অবণ্টিত বা অদাবিকৃত ডিভিডেন্ডের মধ্যে দাবি করা ৮০ শতাংশ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ১ কোটি টাকা।বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, যেসব কোম্পানি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সিএমএসএফে ডিভিডেন্ড স্থানান্তর করেনি তাদের কাছে এর কারণ ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএসইসি। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ব্যাখ্যা সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করতে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া এখনো কী পরিমাণ ক্যাশ ডিভিডেন্ড চিহ্নিত করা হয়নি এবং ক্যাশ ও বোনাস ডিভিডেন্ড পৃথকভাবে ভাগ করার জন্য সিএমএসএফকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।সম্প্রতি ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের চিফ অব অপারেশনের (সিওও) কাছে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছে বিএসইসি।এদিকে বিএসইসির চিঠি পাওয়ার পরপরই যেসব কোম্পানি এখনো তাদের কাছে রক্ষিত অবণ্টিত বা অদাবিকৃত ডিভিডেন্ড জমা দেয়নি তাদের চিঠি দিয়েছে সিএমএসএফ। ইতিমধ্যে বেশ কিছু কোম্পানি ওই চিঠির জবাবে ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। তবে কিছু কোম্পানি সিএমএসএফের চিঠির জবাবই দেয়নি। আর কিছু কোম্পানি শিগগিরই চিঠির জবাব দেবে বলে জানিয়েছে। ওই কোম্পানিগুলোর প্রদান করা ব্যাখ্যা একত্রিত করে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ প্রতিবেদন আকারে বিএসইসিতে পাঠানো হবে।প্রসঙ্গত, ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের ১১ সদস্যের বোর্ড অব গভর্নস অনুমোদন দেয় বিএসইসি। ফান্ডটির চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্যসচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।সিএমএসএফের বোর্ড অব গভর্নসের সদস্যরা হলেন- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তারিক আমিন ভুঁইয়া, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) স্বতন্ত্র পরিচালক এ কে এম নুরুল ফজলে বাবুল, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল) পরিচালক মোহাম্মদ তারেক, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) সভাপতি আজম জে চৌধুরী, দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) সদস্য এ কে এম দেলোয়ার হোসেন, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ তানজিলা দীপ্তি।

Share this news