পুঁজিবাজারমূল্যস্ফীতিকে চোখ রাঙিয়ে ঘুরে দাড়িয়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজার

Date: 2022-09-12 05:39:23
পুঁজিবাজারমূল্যস্ফীতিকে চোখ রাঙিয়ে ঘুরে দাড়িয়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজার
বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির মহামারি আকার ধারণ সব খাতকে চোখ রাঙাচ্ছে। পাশাপাশি ডলারে দর বৃদ্ধির ফলে উন্নয়শীল দেশগুলো আমদানি বিল পরিশোধে হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে আশার আলো দেখাচ্ছে এশিয়ার শেয়ারবাজার। এই অঞ্চলের শেয়ারবাজারে উত্থান হয়েছে। এই উত্থানের ধারবাহিকতা আজকেও বজায় রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন অনেকে।সোমবার এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সময়ে এশিয়ার শেয়ারবাজারে নিক্কি২২৫ সূচক ১ দশমিক ০২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সূচকটি ২৮৮ পয়েন্ট বেড়ে ২৮ হাজার ৫০৩ পয়েন্টে দাড়িয়েছে। এছাড়া হ্যাং সেং ইনডেক্স ২ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১৯ হাজার ৩৬২ পয়েন্টে দাড়িয়েছে। এস অ্যান্ড পি বিএসই সেনসেক্স ৩৭০ পয়েন্ট বেড়ে ৬০ হাজার ১৬৪ পয়েন্টে দাড়িয়েছে।পাশাপাশি বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে সোমবার লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে অধিকাংশ কোম্পানির দর বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিন বেলা ১১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত মোট ৩৬৭টি কোম্পানি অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৬১ টি কোম্পানির দর বৃদ্ধি পায়, দর কমে ৭৪ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৩১ টি কোম্পানির দর। সূচকের সামন্য উত্থানে লেনদেন চলছে বাজারটিতে।ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৬ হাজার ৫৩৯ পয়েন্টে দাড়িয়েছে। এছাড়া ডিএসইএস ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৪৩৩ পয়েন্ট দাড়িয়েছে। অপরদিকে ডিএসই৩০ ইনডেক্স ৬ পয়েন্ট কমেছে।অপরদিকে যুক্তারষ্ট্রের শেয়ারবাজার নাসডাকে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকটি ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সূচকটি ৪ হাজার ৬৭ পয়েন্টে দাড়িয়েছে। এছাড়া নাসডাক ১০০ সূচকটি ২ দশমিক ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২ হাজার ৫৮৮ পয়েন্টে দাড়িয়েছে। এসময় সূচকটিতে যোগ হয়েছে ২৬৭ পয়েন্ট। নাসডাক কম্পোজিট সূচকটির বৃদ্ধি পেয়েছে ২ দশমিক ১১ শতাংশ।ছুটির দিনে চীন এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় বাণিজ্যে কিছুটা ধীরগতি তৈরি করে। রাশিয়ান বাহিনীর বিরুদ্ধে ইউক্রেনের আশ্চর্যজনক সাফল্যের প্রভাব কী হতে পারে সে বিষয়ে ব্যবসায়ীরা অনিশ্চিত ছিলেন।এমএসসিআইর এশিয়া-প্যাসিফিক শেয়ারের বিস্তৃত সূচকটি দুই বছরের সর্বনিম্ন পতন থেকে রক্ষা পেয়েছে। গত সপ্তাহে সূচকটিতে যোগ হয়েছে দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া জাপানের নিক্কি গত সপ্তাহে ২ শতাংশ উত্থান দেখিয়েছে।এসময় চাইনিজ বুলু চিপস খুচরা ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল তথ্য থেকে ১ দশমিক ৩ শতাংশ এগিয়ে রয়েছে। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে এটি আরও উন্নতি করতে পারে।ওয়েস্টপ্যাকের অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, “অর্থনীতি প্রথমার্ধে সংকুচিত হওয়া ও উল্লেখযোগ্য চাপের মধ্যে পরিবারের ব্যয় ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে, বিস্ময়কর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে।”অপরদিকে ফেডারেল রিজার্ভ চলতি মাসেই ৫০ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে বাজারে তথ্য অনুযায়ী বোঝা যায়, ফেডারেল রিজার্ভ ৭৫ সেবিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করতে পারে।বোফা গ্লোবাল ইকোনমিস্ট ইথান হ্যারিস আশঙ্কা করছেন, কখন থামতে হবে তা নির্ধারণ করতে প্রকৃত মুদ্রাস্ফীতির উপর লক্ষ্য করার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো অনেক দূর যেতে পারে। ব্যাঙ্ক ফেডারেল ফান্ডের হারের জন্য তার লক্ষ্য ৪ থেকে ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ রেঞ্জে তুলেছে।তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য এর অর্থ হল সুদের হারের উপর আরও চাপ, ঝুঁকি সম্পদে আরও দুর্বলতা এবং ডলার দর আরও উত্থান হবে।এছাড়া ডলার বাজার থেকে কিছু লাভের মধ্যে রয়েছে। এক মাস এভাবে চলতে থাকার পরে আরও স্থায়ী হবে। ইয়েনের উপর ডলারের দাম এত দ্রুত বেড়েছে যে জাপানি কর্তৃপক্ষ তাদের মুদ্রার পতনের প্রতিবাদে ক্রমশ সোচ্চার হয়ে উঠছে। হস্তক্ষেপের জল্পনা জাগাচ্ছে এবং ব্যাংক অফ জাপানের উপর তার ফলন বক্র নিয়ন্ত্রণ নীতিকে সংযত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।জাপানের সরকারকে অবশ্যই ইয়েনের অত্যধিক পতন মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। রোববার একজন সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, ২৪ বছরের মধ্যে ডলারের তুলনায় সবচেয়ে দুর্বল স্তরে রয়েছে ইয়েন।এক ডলার কিনতে ১৪২ দশমিক ৭৪ ইয়েন খরচ করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১৪৪ দশমিক ৯৯ ইয়েন পর্যন্ত খরচ করতে হয়েছে।অপরদিকে ডলার সূচক ১০৮ দশমিক ৮২০ এ দাড়িয়েছে। যা গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১১০ দশমিক ৭০ এ দাড়িয়েছিলো। এছাড়া এক ডলার ধরে রাখতে দশমিক ৯৯ ইউরো খরচ কতে হচ্ছে।রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারকরা রেকর্ড উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে আনতে সুদের হার ২ শতাংশ বা তার বেশি বাড়াতে হবে।এএনজির বিশ্লেষকরা বলছেন, গত মাসে ডলারের দাম ইউরো এবং চীনা ইউয়ানের বিপরীতে প্রায় ৯ শতাংশ, ব্রিটিশ পাউন্ডের বিপরীতে ১২ শতাংশ এবং ইয়েনের বিপরীতে ১৯ শতাংশ বেড়েছে।বিশ্লেষকরা আরও বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলো প্রচুর চাপে রয়েছে। এসব দেশগুলো আমদানি ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।ডলারের এই দর বৃদ্ধির ফলে বিশ্ব বাজারে স্বর্নের দামেও ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার উদ্বেগের মধ্যেও তেলের দাম নিম্নমুখী হয়েছে।

Share this news