পুঁজিবাজারে ডেরিভেটিভস চালুর উদ্যোগ ডিএসইর
দেশের পুঁজিবাজারে পণ্যের বৈচিত্র্য, বাজারের গভীরতা ও দক্ষতা বাড়াতে এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড প্ল্যাটফর্মে আর্থিক ডেরিভেটিভস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এর অংশ হিসেবে ডেরিভেটিভস প্রবর্তন নিয়ে অংশীজনদের নিয়ে সচেতনতা ও পরামর্শমূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ডিএসইর ট্রেনিং একাডেমিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার মো. নাফিজ আল তারেক, সিএফএ, এফআরএম, নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কালাম, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার এবং মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার সাইয়িদ মাহমুদ জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিতে শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান, মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন।বিএসইসির কমিশনার মো. নাফিজ আল তারেক বলেন, পুঁজিবাজারে ডেরিভেটিভস চালুর বিষয়ে কমিশন ইতিবাচক। তবে এ ধরনের পণ্য চালুর আগে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং বাজারের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, ২০২৮ সালের মধ্যে ডেরিভেটিভস চালুর লক্ষ্য সামনে রেখে সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি (সিসিপি) ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ডেরিভেটিভস চালু একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। নির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও সময়সূচি অনুযায়ী অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কালাম বলেন, ডেরিভেটিভসের সফল বাস্তবায়নে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক, প্রযুক্তিগত ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে।ডিএসইর মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার সাইয়িদ মাহমুদ জুবায়ের জানান, ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে ডেরিভেটিভস পণ্য চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, প্রথম ধাপে ‘স্টক ইনডেক্স ফিউচার্স’ চালু করা হবে। পরবর্তী ধাপে ‘সিঙ্গেল স্টক ডেলিভারেবল ফিউচার্স’ এবং দীর্ঘমেয়াদে ‘অপশনস মার্কেট’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।ডিএসইর এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজারে নতুন বিনিয়োগপণ্য যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি বাজারের গভীরতা, বৈচিত্র্য ও দক্ষতা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।