পতনেও ক্রয়চাপ সেবা খাতে
দেশের পুঁজিবাজারে সব সূচক কমার মধ্য দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবারের লেনদেন শেষ হয়েছে। গতকাল শেষ কার্যদিবসে আগের দিনের তুলনায় টাকার অঙ্কে লেনদেন বেড়ে সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটদর অপরিবর্তিত ছিল। গতকাল শেষ কার্যদিবসে সূচক পতনে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও শেয়ার ক্রয়চাপ বেশি ছিল সেবা ও আবাসন খাতের শেয়ারে। ফলে খাতটি দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল। অপরদিকে এদিন বিনিয়োগকারীর বিমুখ ও শেয়ার বিক্রির চাপ ছিল ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে। আলোচ্য খাতটির শেয়ারদর পতন হয়েছে।বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল সেবা খাতের শেয়ারদর বেড়েছে ১ দশমিক ৩০ শতাংশ। এদিন খাতটিতে মোট ৪টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া শেয়ারের মধ্যে ২টির দর বেড়েছে এবং ১টির দর কমেছে। দ্বিতীয় স্থানে ছিল বিমা খাতের শেয়ার। এ খাতের দর বেড়েছে ১ দশমিক ১০ শতাংশ। খাতটিতে মোট ৫৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া শেয়ারের মধ্যে ২৯টির দর বেড়েছে, ৭টির দর কমেছে এবং বাকিগুলোর দর অপরিবর্তিত ছিল। শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ শেয়ারদর বেড়ে তৃতীয় ছিল ট্যানারি খাত। এছাড়া টেলিকমিউনিকেশন, মিউচুয়াল ফান্ড, বস্ত্র এবং আর্থিক খাতে শেয়ারদর বৃদ্ধির বা কমার কোনো পরিবর্তন হয়নি।এদিকে গতকাল বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপ থাকায় ভ্রমণ খাতে শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি কমেছে। খাতটিতে শেয়ারদর কমেছে ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। এরপর রয়েছে আইটি খাতের শেয়ার। খাতটিতে ১ দমমিক ৫০ শতাংশ শেয়ারদর কমেছে। ১ দশমিক ১০ শতাংশ শেয়ারদর কমে তৃতীয় স্থানে ছিল সিমেন্ট খাত।অপরদিকে গতকাল লেনদেনের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে। খাতটিতে গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১২ দশমিক ২০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা আইটি খাতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। ৮ দশমিক ১০ শতাংশ লেনদেন হওয়া বস্ত্র খাত রয়েছে চতুর্থ স্থানে।বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে ৭৯৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৭২১ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৭২ দশমিক ৪২ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৪ দশমিক শূন্য ৫ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ১ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ১৯৪ দশমিক ৩৫ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৩৭১ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৫৭টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৮৪টি এবং কমেছে ৭৬টির। শেয়ার পরিবর্তন হয়নি ১৯৭টির।অপরদিকে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা শেয়ার। আগেরদিন ২২ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯০টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটদর বেড়েছে ৫০টি, কমেছে ৫৭টি এবং পরিবর্তন হয়নি ৮৩টির।এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১২ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৪৯০ দশমিক ১৩ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক দশমিক ৪৪ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক দশমিক ২৪ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স ৭ দশমিক ৬০ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক দশমিক ৩১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩১৮ দশমিক ৫৬ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৪৬১ দশমিক ৪৭ পয়েন্টে, ১১ হাজার ৭৩ দশমিক ৬৮ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ১৭১ দশমিক ১৬ পয়েন্টে।