পাঁচ দিনে পুঁজিবাজারে ১৩০ পয়েন্ট উধাও

Date: 2026-08-19 06:00:03
পাঁচ দিনে পুঁজিবাজারে ১৩০ পয়েন্ট উধাও
টানা পাঁচ কার্যদিবস ধরে দেশের পুঁজিবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট)ও ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই ও সিএসই) অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। দিনের শুরুতে বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও দুপুরের পর বিক্রির চাপ বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত বড় দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৭৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ফলে টানা পাঁচ কার্যদিবসে সূচকটি হারিয়েছে ১৩০ পয়েন্ট। একই সঙ্গে প্রতিদিন বাজার মূলধন কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট আরও গভীর হচ্ছে।পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফেরানো ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজার পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন অর্থমন্ত্রীও বাজার চাঙা করতে একাধিক ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠন এবং নতুন বাজেটে পুঁজিবাজারের গতি ফেরাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।তবে এসব উদ্যোগের পরও টানা দরপতন থামছে না। ফলে নীতিগত সহায়তা ও সংস্কারের পরও বাজারের মন্দাভাব কাটছে না কেন—এ নিয়ে বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতে অধিকাংশ শেয়ারের দাম বাড়ায় ডিএসইর সূচকও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে দুপুর ১২টার পর বিমা খাতের শেয়ারে বিক্রির চাপ বাড়তে শুরু করে। ধীরে ধীরে সেই চাপ অন্যান্য খাতের শেয়ারেও ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে একের পর এক শেয়ারের দর কমতে থাকায় সূচকও দ্রুত নিচে নামতে থাকে।দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৭টির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ২৬৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৭টির।১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ‘এ’ গ্রুপের ৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ১২৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৩টির। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ‘বি’ গ্রুপের ৭টি প্রতিষ্ঠানের দর বেড়েছে, ৬৫টির কমেছে এবং ২টির অপরিবর্তিত রয়েছে।লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপের ২৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে, ৭২টির কমেছে এবং ২২টির অপরিবর্তিত রয়েছে। এ ছাড়া ১০টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বেড়েছে, ১২টির কমেছে এবং ১২টির অপরিবর্তিত রয়েছে।দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৭৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই-৩০ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৬৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৫০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।তবে সূচকের বড় পতনের মধ্যেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ সামান্য বেড়েছে। মঙ্গলবার মোট ৯৯৮ কোটি ১০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৯৯৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।দিনের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অংশ ছিল ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংয়ের। কোম্পানিটির ৫২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এরপর আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ৫১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং এনভয় টেক্সটাইলের ২৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় আরও ছিল শমরিতা হাসপাতাল, মালেক স্পিনিং, বেক্সিমকো, রানার অটোমোবাইল, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, সায়হাম টেক্সটাইল ও শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ।সিএসইতেও বড় দরপতনচট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্র দেখা গেছে। মঙ্গলবার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১১০ পয়েন্ট কমেছে। এদিন সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭১টির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ১৩৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩০টির। সিএসইতে মোট ৭৩ কোটি ২২ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১০৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা।পুঁজিবাজারে একের পর এক ইতিবাচক উদ্যোগ ও সংস্কারের ঘোষণা এলেও টানা পতন থামছে না। বরং মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইএক্সের ১৩০ পয়েন্ট পতন বাজারের দুর্বলতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটকে নতুন করে সামনে এনেছে।বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু নীতিগত ঘোষণা নয়, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কার্যকর বাস্তবায়ন, বাজারে স্থিতিশীলতা এবং ধারাবাহিক ইতিবাচক উদ্যোগের প্রতিফলন জরুরি। অন্যথায় দরপতনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে।

Share this news