অবণ্টিত অর্থ শেয়ারবাজার স্থিতিশীলতা ফান্ডে জমা না দিলে জরিমানা

Date: 2023-06-27 21:00:08
অবণ্টিত অর্থ শেয়ারবাজার স্থিতিশীলতা ফান্ডে জমা না দিলে জরিমানা
শেয়ারবাজার স্থিতিশীলতা ফান্ডে (সিএমএসএফ) বিনিয়োগকারীদের দাবিহীন ও অবণ্টিত অর্থ ও শেয়ার জমা না দিলে কোম্পানিগুলোকে জরিমানা গুণতে হবে। সিএমএসএফ ফান্ডের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান আজ (সোমবার) এমন হুশিয়ারি দিয়েছেন।তিনি বলেন, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ক্যাশ ডিভিডেন্ড বা বোনাস শেয়ার সিএমএসএফে জমা দিতে ব্যর্থ হলে অনাদায়ী ডিভিডেন্ডের উপর প্রতি মাসে কোম্পানিগুলোকে ২.৫০ শতাংশ হারে সারচার্জ দিতে হবে।অর্থাৎ কোনো কোম্পানি যদি বিনিয়োগকারীদের ক্যাশ ১০০ টাকা কিংবা ১০০ টাকার শেয়ার ফান্ডে জমা না দেয়, তবে ওই কোম্পানিকে এই টাকার উপরে ২ টাকা ৫০ পয়সা করে প্রতি মাসে জরিমানা দিতে হবে।জাতীয প্রেসক্লাব কতৃক আয়োজিত ‘সেনসেটিভ অব জারনালিষ্ট এবাউট ক্যাপিটাল মার্কেট স্টাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ)’ আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ হুশিয়ারি দেন।নজিবুর রহমান বলেন, বর্তমানে বাজারে তালিকাভুক্ত ৪৬০টি কোম্পানির কাছে বিনিয়োগকারীদের ক্যাশ ও বোনাস শেয়ার বাবদ পড়ে আছে ৭ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা। বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা বিনিয়োগকারীদের এই টাকার মুনাফা কোম্পানিগুলো ভক্ষণ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।প্রধানমন্ত্রীল সাবেক এই মুখ্য সচিব বলেন, ২০২১ সালে সিএমএসএফ গঠন করার পর তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে তিন বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে থাকা দাবিহীন কিংবা অবিতরণকৃত ডিভিডেন্ড ফান্ডে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় বিএসইসি। এই নির্দেশের পর গত কিছু কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের ক্যাশ ও বোনাস ডিভিডেন্ড জমা দিলেও অধিকাংশ কোম্পানি সেই অর্থ জমা দেয়নি। খাতওয়ারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাবিহীন অর্থ ও শেয়ার জমা না দেওয়ার শীর্ষে রয়েছে ব্যাংক খাত।জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দতের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে সিএমএসএফ এর পরিচালক ও চট্রগ্রাম স্টকএক্সচেঞ্জেরর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, ড. মোহাম্মদ তারেক ও একেএম দেলোয়ার হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, দেশের শেয়ারবাজার নিয়ে অনেকের মধ্যে নেতিবাচক ধারনা রয়েছে। দেশের শেয়ারবাজারকে নেতিবাচক ধারনা থেকে বের করে আনতে হবে।তিনি বলেন এখানে শিল্পপতি থেকে শুরু করে একজন সাধারন মানুষের কষ্টা অর্জিত অর্থের বিনিয়োগ রয়েছে। এসব বিনিয়োগকারিদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।সিএমএসএফ যেভাবে দেশের শেয়ার বাজার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে তাকে তিনি স্বাগত জানিয়ে বলেন এভাবে কাজ অব্যাহত থাকলে শেয়ারবাজারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারিদের আগ্রহ ও ইতিবাচক আগ্রহ বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।বিএসইসির তথ্য মতে, বিনিয়োগকারীদের দাবিহীন ডিভেডেন্ডের পরিমাণ ৮ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩৫৪ কোম্পানির কাছে ক্যাশ টাকার পরিমাণ ছিল ৫৯৯ কোটি আর ৩৪৯ কোম্পানির কাছে বোনাস শেয়ারের ডিভেডেন্ডের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ১০৭ কোটি টাকা।সব মিলে ৪৬০টি কোম্পানির কাছে পাওনা ৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৫০টি কোম্পানি এখন পর্যন্ত ক্যাশ ও বোনাস কোনো ডিভেডেন্ডই দেয়নি। আর ৩১০টি প্রতিষ্ঠানের আংশিক কিংবা অর্ধেক বাকি রয়েছে।বিএসইসি সূত্রটি আরও জানায়, চলতি বছরের ৩০ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিগুলো ফান্ডে মোট ১ হাজার ২১৩ কোটি টাকা জমা দিয়েছে। এর মধ্যে ক্যাশ ডিভেডেন্ডের টাকা জমা দিয়েছে ৫২০ কোটি আর বোনাস শেয়ারের অর্থ জমা দিয়েছে ৬৯৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ ক্যাশ ৭৯ কোটি আর বোনাস শেয়ারের ৭ হাজার ৪১৪ কোটি টাকার এখনো জমা দেয়নি।যাদের নামে শেয়ার তারা কেউ মারা গেলে, বিদেশে চলে গেলে, কিংবা দীর্ঘদিন খোঁজ না রাখলে তাদের ব্যাংক হিসাব বন্ধ বা অকার্যকর হয়ে যায়। বিও হিসাবের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। এমন ক্ষেত্রে ডিভেডেন্ডের টাকা বা শেয়ার বিনিয়োগকারীর ব্যাংক বা বিও অ্যাকাউন্টে জমা না হয়ে কোম্পানির কাছে ফেরত যায়।বিনিয়োগকারীর মৃত্যুর পর অনেক সময় তথ্য বা কাগজপত্রের অভাবে তার মনোনীত উত্তরাধিকারও সেই টাকা বা শেয়ার আর দাবি করেন না। এর বাইরেও আইনি জটিলতা বা অন্য কারণে লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীর হাতে পৌঁছায় না অনেক সময়। তখন কোম্পানি ওইসব লভ্যাংশ ‘সাসপেন্ডেড’ হিসাবে জমা দেখিয়ে চূড়ান্ত আর্থিক বিবরণী তৈরি করে।

Share this news