মুনাফা কমার শঙ্কায় তালিকাভুক্ত সিমেন্ট উৎপাদকরা

আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে সিমেন্ট উৎপাদকদের ক্লিংকার আমদানির ক্ষেত্রে টন প্রতি ২০০ টাকা করে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সিমেন্ট উৎপাদনের মূল এ কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো হলে উল্লেখযোগ্য হারে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। এতে এরই মধ্যে নানা ধরনের ব্যয়বৃদ্ধির চাপে থাকা সিমেন্ট কোম্পানিগুলোর মুনাফা আরো কমে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।তথ্যনুসারে, বর্তমানে দেশের সিমেন্ট উৎপাদকদের ক্লিংকার আমদানির ক্ষেত্রে প্রতি টনে ৫০০ টাকা করে শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। তবে আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ শুল্কের পরিমাণ বাড়িয়ে টনপ্রতি ৭০০ টাকা করা হয়েছে। সিমেন্ট উৎপাদনের মূল কাঁচামাল ক্লিংকার। দেশের সব সিমেন্ট উৎপাদকই ক্লিংকার আমদানি করেন। শুধু লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ তাদের নিজস্ব সুরমা প্লান্টে ক্লিংকার উৎপাদন করে। ক্লিংকার আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর ফলে সিমেন্ট উৎপাদকদের মুনাফা মার্জিন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে, যদি না প্রতিষ্ঠানগুলো সিমেন্টের দাম বাড়ানোর মাধ্যমে বাড়তি এ ব্যয় সমন্বয় না করে। এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, পণ্য জাহাজীকরণের ব্যয়বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের ব্যয়বৃদ্ধিসহ টাকার অবমূল্যায়নের কারণে সিমেন্ট খাতের কোম্পানিগুলোর ব্যয় অনেকাংশে বেড়ে গেছে। বাড়তি এ ব্যয় সমন্বয়ে কোম্পানিগুলো সিমেন্টের দাম বাড়িয়েছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির চাপে ক্রয়ক্ষমতা সংকুচিত হয়ে আসার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনায় মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় রড-সিমেন্টের দাম বেড়ে যাওয়ায় এরই মধ্যে নির্মাণ খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দাম আরো বাড়লে আরো বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।এ বিষয়ে ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসির উপদেষ্টা মাসুদ খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সব ক্ষেত্রেই সাধারণত কাঁচামালের ওপর ৫ শতাংশ হারে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সিমেন্ট খাতের বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো বিবেচনায় এর পরিমাণ ৯ শতাংশের বেশি। নতুন করে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাবের বাস্তবায়ন হলে এটি বেড়ে ১৩ শতাংশে দাঁড়াবে। সিমেন্ট উৎপাদনের ক্ষেত্রে ৬০-৬৫ শতাংশ ক্লিংকারের প্রয়োজন হয়। ফলে ৪ শতাংশ হারে শুল্ক বেড়ে যাওয়ার প্রভাব হবে অনেক বেশি। এতে কোম্পানিগুলোর উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়ে যাবে। একইভাবে গ্রস মুনাফা মার্জিন কমবে ৩ শতাংশের মতো। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে দেশের সিমেন্ট খাতে বিক্রির পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ কমে গেছে। সামনে বর্ষাকাল আসছে। স্বাভাবিকভাবেই এ সময়ে সিমেন্টে ব্যবহার কম হয়। এ অবস্থায় সিমেন্টের দাম বাড়িয়ে বাড়তি শুল্ক সমন্বয় করা সম্ভব হবে না। শীতকালে সিমেন্টের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। ফলে আগামী কয়েক মাস সিমেন্টের দাম না বাড়িয়েই কোম্পানিগুলোকে বাড়তি ব্যয়ের বোঝা বহন করতে হবে। নানা ধরনের ব্যয়বৃদ্ধির চাপে থাকা সিমেন্ট খাত এতে আরো নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে পড়বে।’