Skip to content
Latest stories

Stock news

মার্চেন্ট ব্যাংকারদের বিধিমালা বদলাচ্ছে, কমিটি গঠন বিএসইসির

প্রায় তিন দশক পুরোনো মার্চেন্ট ব্যাংকার ও পোর্টফোলিও ম্যানেজারদের বিধিমালা হালনাগাদের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। পুঁজিবাজারে এ খাতের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে ১৯৯৬ সালের বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধন করা হচ্ছে।এ লক্ষ্যে ‘সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্চেন্ট ব্যাংকার ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার) বিধিমালা, ১৯৯৬’ সংশোধনের প্রস্তাব তৈরিতে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি। সংস্থাটির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।নতুন বিধিমালায় মার্চেন্ট ব্যাংকারদের লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা, আর্থিক সক্ষমতা, কার্যক্রমের পরিধি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগকারীদের প্রতি দায়িত্বের বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট করা হতে পারে।বিশেষ করে পূর্ণাঙ্গ মার্চেন্ট ব্যাংকারদের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় দায়িত্ব ও জবাবদিহির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগের বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, ১৯৯৬ সালের বিধিমালাটি অনেক পুরোনো। বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।তিনি বলেন, দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মার্চেন্ট ব্যাংকারদের লাইসেন্সের শর্ত, কার্যক্রম এবং যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ মার্চেন্ট ব্যাংকারদের কার্যক্রম এবং বিনিয়োগকারীদের প্রতি তাদের বিশ্বস্ততার দায়িত্ব কী হবে, তা বিবেচনায় নিয়েই বিধিমালা হালনাগাদ করা হবে।বিএসইসির আইন বিভাগের সিএমআরআরসি বিভাগ সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে। আদেশে বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাব তৈরিতে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিএসইসির পরিচালক মাহমুদুল হককে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া এবং সহকারী পরিচালক অমিত কুমার সাহা। সহকারী পরিচালক মেহরান আলীকে কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।কমিটিকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাবসহ একটি প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিতে বলা হয়েছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন বিধিমালায় মার্চেন্ট ব্যাংকার হিসেবে লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা, পেশাগত দক্ষতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালন সক্ষমতার নির্দিষ্ট মানদণ্ড যুক্ত করা হতে পারে।একই সঙ্গে গ্রাহকের অর্থ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্বার্থের সংঘাত এড়ানো, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সুরক্ষায় মার্চেন্ট ব্যাংকারদের দায়িত্ব আরও পরিষ্কারভাবে নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে।দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে কী ধরনের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে, সে বিষয়টিও সংশোধিত বিধিমালায় স্পষ্ট করা হতে পারে।পুঁজিবাজারে মার্চেন্ট ব্যাংকারদের গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে রয়েছে ইস্যু ব্যবস্থাপনা, আন্ডাররাইটিং এবং পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা। সময়ের সঙ্গে নতুন নতুন আর্থিক পণ্য চালু হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের কাজের ক্ষেত্রও বিস্তৃত হচ্ছে।করপোরেট বন্ড, সুকুক, এসএমই তালিকাভুক্তি এবং অন্যান্য কাঠামোবদ্ধ আর্থিক পণ্যে কোন ধরনের মার্চেন্ট ব্যাংকার কী ধরনের কাজ করতে পারবে, সংশোধিত বিধিমালায় সে বিষয়টিও নির্দিষ্ট করা হতে পারে।১৯৯৬ সালে দেশের তৎকালীন পুঁজিবাজারের কাঠামো বিবেচনায় বিধিমালাটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। এরপর বাজারের আকার, বিনিয়োগের ধরন এবং প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন আর্থিক পণ্য।বিভিন্ন সময়ে বিধিমালায় কিছু সংশোধন আনা হলেও পুরো কাঠামোটি বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিএসইসির ওয়েবসাইটে থাকা বিধিমালার সংকলিত সংস্করণ সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়েছিল।নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে মার্চেন্ট ব্যাংকারদের লাইসেন্স প্রদান ও কার্যক্রমের সীমা আরও স্পষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ব্যবস্থাপনায় এসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও জবাবদিহি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন আর্থিক পণ্যে কাজের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি দুর্বল বা ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রও তৈরি হতে পারে।পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালী করার যে উদ্যোগ চলছে, মার্চেন্ট ব্যাংকারদের বিধিমালা হালনাগাদ তারই অংশ। তবে নতুন বিধিমালায় কী ধরনের শর্ত যুক্ত হয় এবং সেগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়, তার ওপরই এই উদ্যোগের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে।

Share this story

Android app Stock News BD The same market briefs, formatted for your phone. Google Play