কোম্পানি আইনে শেয়ার বাইব্যাকের বিধান চায় ডিবিএ

Date: 2026-09-10 10:00:09
কোম্পানি আইনে শেয়ার বাইব্যাকের বিধান চায় ডিবিএ
দেশের শেয়ারবাজারকে আরও গতিশীল, কার্যকর ও বিনিয়োগবান্ধব করতে প্রস্তাবিত কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর তৃতীয় সংশোধনীতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার পুনঃক্রয় এবং একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণসংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আতাউর রহমান খানের কাছে পাঠানো এক লিখিত প্রস্তাবে এ সুপারিশ করা হয়। ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রস্তাবটি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খানের কাছেও বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।প্রস্তাবে ডিবিএ বলেছে, শেয়ারবাজারের দক্ষতা ও গতিশীলতা বাড়াতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে নিজেদের শেয়ার পুনঃক্রয়ের জন্য সুস্পষ্ট আইনি সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে কোম্পানি আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে শেয়ার পুনঃক্রয়সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিধান অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।একই সঙ্গে শেয়ার পুনঃক্রয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিধি ও প্রবিধান প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, তদারকি ও পর্যবেক্ষণের ক্ষমতা বিএসইসিকে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। এসব লেনদেনে সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে ডিবিএ।তালিকাভুক্ত কোম্পানির একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। ডিবিএ বলেছে, একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া দূর করা প্রয়োজন। এ জন্য এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার বিধি ও প্রবিধান প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে বিএসইসিকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।ডিবিএর মতে, শেয়ারবাজার ও তালিকাভুক্ত কোম্পানির আইনগত নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে শেয়ার পুনঃক্রয়, একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ করপোরেট কার্যক্রমের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির ক্ষমতা বিএসইসির থাকা উচিত।এ ধরনের কাঠামো দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। পাশাপাশি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতেও এটি ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে সংগঠনটি।ডিবিএ মনে করে, শেয়ার পুনঃক্রয় এবং একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে আধুনিক ও কার্যকর বিধি-প্রবিধান চালু হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর করপোরেট পুনর্গঠন ও মূলধন ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও কার্যকর হবে। এর ফলে শেয়ারবাজারে গতিশীলতা বাড়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য অংশীজনের স্বার্থ সুরক্ষাও আরও শক্তিশালী হবে।শেয়ার পুনঃক্রয়ের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো তাদের মূলধন কাঠামো ব্যবস্থাপনার সুযোগ পেতে পারে। একই সঙ্গে এটি কোম্পানির শেয়ারের দামে সম্ভাব্য সহায়তা দিতে পারে। অন্যদিকে, একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের জন্য সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামো থাকলে কোম্পানির পুনর্গঠন ও একীভূতকরণ প্রক্রিয়াও সহজতর হবে। তবে উভয় কার্যক্রমের ক্ষেত্রেই যথাযথ নিয়ন্ত্রক তদারকি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ডিবিএ।প্রস্তাবিত কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর তৃতীয় সংশোধনী চূড়ান্ত করার সময় তাদের সুপারিশগুলো সরকার যথাযথভাবে বিবেচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।শেয়ারবাজারের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারের লক্ষ্য ও পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তাবিত বিধানগুলো কোম্পানি আইনের সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডিবিএ।

Share this news