ইতিহাসের সর্বনিম্ন মুনাফা নিয়ে শেয়ারবাজার থেকে টাকা তুলতে যাচ্ছে চার্টার্ড লাইফ

Date: 2022-09-13 01:25:43
ইতিহাসের সর্বনিম্ন মুনাফা নিয়ে শেয়ারবাজার থেকে টাকা তুলতে যাচ্ছে চার্টার্ড লাইফ
শেয়ারবাজারের ইতিহাসে বীমা কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে কম ২০ পয়সার শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) নিয়ে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) অর্থ উত্তোলন করতে যাচ্ছে টার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স। যে কোম্পানিটি এর আগের বছর ২০২০ সালে ১ পয়সাও ইপিএস অর্জন করতে পারেনি। এই দূর্বল মুনাফার কারনে কোম্পানিটির ২.৫০% লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন হয়নি। এই পরিমাণ লভ্যাংশ দিতে গেলেও শেয়ারপ্রতি ২৫ পয়সা মুনাফার দরকার পড়ে।কিন্তু কমিশন বিগত আইপিও দেওয়া কোম্পানিগুলোকে ৩ বছর কমপক্ষে ১০% করে নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার শর্তে আইপিও দিয়েছে। এমনকি এসএমইতে আসা কোম্পানিগুলোকেও একই শর্ত দিয়েছে।এক্ষেত্রে অবশ্য চালাকির আশ্রয় নিয়েছে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষ। তারা কমিশনকে জানিয়েছে, তালিকাভুক্তির পরে শুধুমাত্র সাধারন শেয়ারহোল্ডারদের ১০% লভ্যাংশ দেবে। বাকি উদ্যোক্তা/পরিচালকদের ২% হারে লভ্যাংশ দেবে।এমন দূর্বল বীমা কোম্পানিটিকে শেয়ারবাজার থেকে টাকা নিয়ে শেয়ারবাজার ও ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগের জন্য আইপিও অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। অথচ একজন বিনিয়োগকারী নিজেই এ কাজ করতে পারেন।২২ কোটি ৫০ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধনের চার্টার্ড লাইফের সর্বশেষ ২০২১ সালে শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে বিতরনযোগ্য নিট মুনাফা করেছে ৪৫ লাখ টাকা। যা শেয়ারপ্রতি হিসেবে ২০ পয়সা। যে কোম্পানিটির ওই বছরে শেয়ারবাজার থেকে ক্যাপিটাল গেইন হয়েছে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এই ক্যাপিটাল গেইন না হলে কোম্পানিটিকে ২০২০ সালের আগের বছরগুলোর মতো লোকসান গুণতে হতো। এমনকি ২০২০ সালেও শেয়ারবাজার থেকে ৪৩ লাখ টাকা ক্যাপিটাল গেইন না হলে কোম্পানিটিকে ০.০০৪৬ পয়সা ইপিএসতো দূরের কথা লোকসান গুণতে হতো।এর আগে গত বছর লোকসানের কারনে কোম্পানিটির আইপিও আবেদন বাতিল করে দিয়েছিল কমিশন। কারন কোম্পানিটি ১৯ সাল থেকে আগের বছরগুলোতে লোকসানে ছিল। তবে পরের ২ বছর ক্যাপিটাল গেইন দিয়ে লোকসান কাভার শেষে সামান্য মুনাফা করতে পেরেছে। আর এতেই বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন পেয়ে গেছে।এ বিষয়ে চার্টার্ড লাইফের সচিব মিজানুর রহমান বিজনেস আওয়ারকে বলেন, কোম্পানিটিকে শুরুতে কয়েক বছর ব্যবসা গুছিয়ে মুনাফায় আসতে সময় লেগেছে। এখন থেকে আগামিতে ভালো করবে।এ কোম্পানিটিকে বিএসইসি আগামি ২৫ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য সময় নির্ধারন করে দিয়েছে।এ কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার প্রধান দায়িত্বে রয়েছে এএএ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। এরসঙ্গে সহযোগি হিসেবে ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে ট্রাস্ট ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট ও এবি ইনভেস্টমেন্ট।

Share this news