ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা, কমেছে ১৬ শতাংশ

Date: 2026-08-16 18:56:10
ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা, কমেছে ১৬ শতাংশ
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে । বছরের প্রথমার্ধে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ৮ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ইউরোতে নেমে এসেছে। একই সময়ে ইইউর সামগ্রিক পোশাক আমদানির বাজারও সংকুচিত হয়েছে।ইউরোপীয় পরিসংখ্যান দপ্তর ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল এসব তথ্য জানিয়েছেন। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ৮ দশমিক ২২ শতাংশ এবং গড় রপ্তানি মূল্য ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ কমেছে।তবে জুনে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চিত্র দেখা গেছে। ওই মাসে ইইউতে রপ্তানি আগের বছরের জুনের তুলনায় শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে। এ সময় রপ্তানির পরিমাণ ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ বাড়লেও গড় রপ্তানি মূল্য ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ কমেছে।অন্যদিকে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইইউ মোট ৪১ দশমিক ১০ বিলিয়ন ইউরোর পোশাক আমদানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ আমদানি ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ কম। অর্থাৎ ইইউর পোশাক আমদানির বাজার সংকোচনের হার বাংলাদেশের রপ্তানি কমার তুলনায় কম।ইইউর বাজারে পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়া এবং দাম কমে যাওয়াকে আমদানি কমার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রথম ছয় মাসে ইইউর পোশাক আমদানির পরিমাণ ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং গড় একক মূল্য ৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে।এ সময়ে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পাশাপাশি বেশিরভাগ প্রধান পোশাক সরবরাহকারী দেশের রপ্তানিতেও পতন হয়েছে। তুরস্কের পোশাক রপ্তানি ১৪ দশমিক ৬০ শতাংশ, পাকিস্তানের ১২ দশমিক ৫৩ শতাংশ, ভারতের ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ১১ দশমিক ২১ শতাংশ, চীনের ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ কমেছে।প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে ব্যতিক্রম ছিল ভিয়েতনাম। বছরের প্রথমার্ধে ইইউতে দেশটির পোশাক রপ্তানি শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। যদিও ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ কমেছে, তবে গড় একক মূল্য ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ বাড়ায় সামগ্রিক রপ্তানি মূল্য সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে এ সময়ে ভিয়েতনামের গড় একক মূল্য বৃদ্ধিই ছিল সর্বোচ্চ।ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার ক্ষেত্রেও গড় একক মূল্য বেড়েছে। তবে রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দেশ দুটি সামগ্রিক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারেনি।সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইইউর পোশাক আমদানির বাজার যে হারে সংকুচিত হয়েছে, বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে তার চেয়েও বেশি হারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ও গড় মূল্য—দুটিই কমে যাওয়ায় ইউরোপের বাজারে দেশের তৈরি পোশাক খাতের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

Share this news