হঠাৎ রুগ্ন কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ছে

Date: 2023-07-05 17:00:08
হঠাৎ রুগ্ন কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ছে
মালিকানা বদলের পর পাঁচ বছর বন্ধ থাকা কোম্পানি এমারেল্ড অয়েল জাপান প্রবাসী বাংলাদেশি এক ব্যবসায়ীর হাত ধরে এক বছর আগে উৎপাদনে এসেছে। মাত্র তিন মাসের শেয়ারটির দর ৩০ টাকা থেকে ১৫৭ টাকা হয়েছে। একই ব্যবসায়ীর মালিকানায় এখন রুগ্‌ণ কোম্পানি ফু-ওয়াং ফুডস। এ কোম্পানির শেয়ারদরও বেড়ে কয়েক গুণ হবে– এমন গুজবে গত তিন দিনে শেয়ারটির দর ২৪ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে কোম্পানিটির ১২৩ কোটি টাকার বেশি মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।অথচ ঈদের ছুটির পর গত রোববারও ডিএসইতে ফু-ওয়াং ফুডসের শেয়ারহোল্ডাররা ফ্লোর প্রাইসেই শেয়ার বিক্রির জন্য মরিয়া ছিলেন, যদিও কোনো ক্রেতা ছিল না। আগের তিন মাসের এ শেয়ারের বিক্রির আদেশ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতিদিনই প্রায় সাড়ে পাঁচশ বিনিয়োগকারী প্রায় ৫৮ লাখ শেয়ার বিক্রির আদেশ দিয়ে বসে থাকতেন, যার বাজার মূল্য ছিল প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা। গত তিন দিনে এ শেয়ারের এখন ক্রেতার অভাব নেই, অভাব বিক্রেতার। ২০২০ সালে মাত্র ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার পর গত দুই বছর লভ্যাংশ না দিয়েও কোম্পানিটি এখনও ‘বি’ ক্যাটাগরির, যার ১১১ কোটি টাকার মূলধনের বিপরীতে গত বছরই পুঞ্জীভূত লোকসান ছিল প্রায় ৭৬ কোটি টাকা। শুধু ফু-ওয়াং ফুডস নয়, ঈদের ছুটির পর হঠাৎ করে প্রায় ২০-২৫টি রুগ্‌ণ, লোকসানি বা বন্ধ কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ছে। বিশেষত ‘বি’ ক্যাটাগরিভুক্ত শেয়ারে এ উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে।বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস কর্মকর্তারা জানান, শোনা যাচ্ছে ফু-ওয়াং ফুডসের দরও এমারেল্ড অয়েলের মতো বাড়বে। মূলত তিনটি ব্রোকারেজ হাউস থেকে এর সর্বাধিক শেয়ার কেনা হয়েছে বলে জানা গেছে। জাপান প্রবাসী ব্যবসায়ী মিয়া মামুনের কোম্পানি মিনৌরি বাংলাদেশ গত বছর এর মালিকানায় এসেছে। এ মুহূর্তে তাদের হাতে শেয়ার আছে ৭ শতাংশ। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোম্পানিটিকে বাধ্যতামূলকভাবে বাজার থেকে আরও ২৩ শতাংশ শেয়ার কিনতে হবে। মালিকরা শেয়ার কিনছেন বলে দর বাড়ছে– এমন খবর বাজারে চাউর হয়েছে।তবে এ তথ্য সম্পূর্ণ অসত্য ও গুজব বলে দাবি করেছেন ফু-ওয়াং ফুডের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন। তিনি সমকালকে নিশ্চিত করেন, তাঁরা কোনো শেয়ার কিনছেন না। বাজার থেকে আর শেয়ার কেনার কোনো পরিকল্পনাও নেই। তিনি বলেন, মিনৌরির পরিকল্পনা হলো এমারেল্ড অয়েলের মতো নতুন শেয়ার ইস্যু করে ফু-ওয়াং ফুডের মালিকানা শেয়ার ৩০ শতাংশে উন্নীত করা। এ বিষয়ে বিএসইসির সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা শেয়ার মানি জমা দিতে চিঠি দিয়েছেন। তবে কিছু আইনগত জটিলতা থাকায় ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছেন তাঁরা। তাঁর দাবি, চলতি দরবৃদ্ধির সঙ্গে মিনৌরির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঈদের ছুটির পর গত চার দিনে দরবৃদ্ধির শীর্ষ ২০ কোম্পানির ১৭টিই ছিল ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ার। গতকালও সাড়ে ৩ থেকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষ ২০ কোম্পানির মধ্যে ১৫টি ছিল ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ার। গত তিন দিনে এসব শেয়ারের দর এ সময়ে ৭ থেকে ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। নামমাত্র ১-২ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়ে এসব শেয়ার ‘বি’ ক্যাটাগরিতে।চলতি সপ্তাহে এমন যেসব শেয়ারের দর বেড়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো– ফু-ওয়াং ফুডস, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, শ্যামপুর সুগার, রূপালী ব্যাংক, খান ব্রাদার্স পিপি, ঢাকা ডাইং, অলটেক্স, এমারেল্ড অয়েল, ফু-ওয়াং সিরামিক, সাফকো স্পিনিং, ডমিনেজ স্টিল, হামিদ ফেব্রিক্স, জেনারেশন নেক্সট, ড্রাগন সোয়েটার, ইন্দোবাংলা ফার্মা, এফএএস ফাইন্যান্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, সী পার্ল হোটেল এবং প্রাইম টেক্সটাইল। এর মধ্যে ১৪ শেয়ারই কয়েকদিন আগেও ফ্লোর প্রাইসে পড়ে ছিল। এসব শেয়ারের কোনো ক্রেতা ছিল না।শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউসের এমডি জানান, স্রেফ কারসাজি করে কিছু গোষ্ঠী শেয়ারগুলোর দর বাড়াচ্ছে। এগুলোর দর দ্বিগুণ বা তিন গুণ হবে– এমন গুজব ছড়াচ্ছে তারা। ঈদের আগে প্রায় দুই মাসে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানো হয়। অথচ ভালো শেয়ারের ক্রেতা নেই। প্রায় অর্ধেক শেয়ার ফ্লোরে পড়ে আছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি সব দেখেও কিছু করছে না। মনে হচ্ছে, সংস্থাটিও এমন বাজারই চাচ্ছে।

Share this news