গভর্নরের সাক্ষাৎ না পেলে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

Date: 2026-09-20 06:00:02
গভর্নরের সাক্ষাৎ না পেলে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি
রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সচেতন গ্রাহক ফোরাম ও চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পৃথক অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই ব্যাংকটির দিলকুশার প্রধান কার্যালয় এবং শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থান নেন তারা।দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নিয়ে সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। একই সঙ্গে এস আলম গ্রুপসহ ব্যাংক লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। এর আগে টানা পাঁচ দিন ধরে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে ফোরামটি।অন্যদিকে, শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় ‘দফা এক, দাবি এক, চাকরি ফেরত চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। আন্দোলনকারীরা জানান, চট্টগ্রামের পটিয়া থেকেও শতাধিক চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাননি তারা। গভর্নর তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করলে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।এদিকে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রক্রিয়া যখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে, তখন ব্যাংককে অস্থিতিশীল করতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। এর অংশ হিসেবে একটি চক্র ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে গ্রাহকরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। গ্রাহকদের স্বার্থে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।ফোরামের সচিব মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। পাশাপাশি এস আলম গ্রুপ বিদেশে যে সম্পদ পাচার করেছে, তা উদ্ধার, অবৈধ ঋণ সুবিধার সমন্বয় এবং এসব ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনর্বহালের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, এস আলমের সময়ে অনেককে যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের চাকরিতে রাখার সুযোগ তৈরি করতে পরীক্ষা নেওয়া হয়। ওই পরীক্ষায় যারা অংশ নিয়েছেন, তাদের অনেকেই এখনো ব্যাংকে কর্মরত রয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীদের অনেকে ওই পরীক্ষায় অংশ নেননি।তবে মুতাসিম বিল্লাহর এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা মিজান। তিনি বলেন, পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় অনেকেই ওই পরীক্ষায় অংশ নেননি। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সবাই চাকরিতে বহাল রয়েছেন—এ দাবিও সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। চাকরি ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন মিজান।চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা আনোয়ার বলেন, কোনো নোটিশ বা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বেকার থাকায় পরিবার নিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চাকরিতে পুনর্বহালের পাশাপাশি প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।অপর আন্দোলনকারী আশরাফ বলেন, চাকরি হারানোর পর পরিবার নিয়ে তারা চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছেন। চাকরি ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।এদিকে গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঋণ বিতরণ ও বিভিন্ন অনিয়মে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আন্দোলনরত চাকরিচ্যুতদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

Share this news