চলতি বছরেই পুঁজিবাজারে স্ক্রিপ নেটিং চালুর লক্ষ্য ডিএসইর

Date: 2026-09-01 06:00:05
চলতি বছরেই পুঁজিবাজারে স্ক্রিপ নেটিং চালুর লক্ষ্য ডিএসইর
পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের মধ্যেই স্ক্রিপ নেটিং চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এ জন্য এক্সচেঞ্জের ম্যাচিং ইঞ্জিন ও অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (ওএমএস) প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ডিএসই চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম।সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকায় ডিএসই টাওয়ারে ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এক উন্মুক্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) এ আলোচনার আয়োজন করে।ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, একটি শক্তিশালী ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে দৈনন্দিন সূচকের ওঠানামার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার ও বাজারের দক্ষতা বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।তিনি বলেন, দেশের পুঁজিবাজার অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত বা ‘ওভার-রেগুলেটেড’। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে বাজার তার স্বাভাবিক নিয়ম ও নিজস্ব গতিতে বিকশিত হওয়ার সুযোগ কম পায়। বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর ডিরেগুলেশনসহ পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।মোমিনুল ইসলাম বলেন, স্ক্রিপ নেটিং চালু করা দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর একটি। সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে। এখন এটি বাস্তবায়নের জন্য ডিএসইর প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।বিশেষ করে ম্যাচিং ইঞ্জিন ও অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে পরিবর্তনের কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে স্ক্রিপ নেটিং বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। কিছু প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ থাকলেও ট্রেকহোল্ডারদের সহযোগিতায় সেগুলো সমাধান করে চলতি বছরের মধ্যেই এটি চালুর লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে ডিএসই।প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ডিএসইর ওয়েবসাইট আধুনিকায়নের কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান চেয়ারম্যান।মোমিনুল ইসলাম বলেন, দেশি-বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইট গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস। অনেক সময় ওয়েবসাইট দেখেই বিনিয়োগকারীরা কোনো এক্সচেঞ্জ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেন। চলতি কোয়ার্টারের মধ্যেই ডিএসইর নতুন ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।নতুন ওয়েবসাইটে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিশ্বমানের প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে পাবেন বলেও জানান তিনি।বাজারে বড় অঙ্কের ‘বাই অর্ডার’ দিলেই সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীকে কোয়েরি করা হয়—এমন একটি ধারণা রয়েছে উল্লেখ করে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, কোয়েরি করা মানেই কোনো বিনিয়োগকারী ভুল করেছেন, এমন নয়। এটি মূলত সম্ভাবনাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাইয়ের জন্য যেকোনো বিনিয়োগকারীকে কোয়েরি করা হতে পারে।তবে কোয়েরির বর্তমান প্রক্রিয়া কখনো কখনো বাজারে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে বলেও স্বীকার করেন তিনি। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন মোমিনুল ইসলাম।এ জন্য সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) ও স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যে প্রযুক্তিগত একীভূতকরণ নিয়ে কাজ চলছে। এর মাধ্যমে বাজার পর্যবেক্ষণ ও বিনিয়োগকারীদের অভিজ্ঞতা, দুই ক্ষেত্রেই আরও কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।নতুন নতুন পণ্য চালু, বাজারে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং সামগ্রিক দক্ষতা উন্নয়নে সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) কার্যকর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন ডিএসই চেয়ারম্যান।এ জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে কিছু পুনর্গঠন প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। আগামী সেপ্টেম্বরে সিডিবিএলে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বোর্ড পুনর্গঠনসহ পরবর্তী ধাপে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার বিষয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, নাহিদ মাহতাব, মো. নাফিজ আল তারিক ও হোসাইন সাদাত এবং ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার।ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারে টেকসই পরিবর্তন আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারসহ বাজারসংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও কাঠামোগত পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা না গেলে বাজারের ছোটখাটো ওঠানামা নিয়েই আরও দীর্ঘ সময় ব্যস্ত থাকতে হবে।

Share this news