ব্যবসা চাঙ্গা হওয়ার প্রত্যাশা হাইডেলবার্গের

Date: 2023-07-23 17:00:09
ব্যবসা চাঙ্গা হওয়ার প্রত্যাশা হাইডেলবার্গের
র-পরবর্তী নিট মুনাফায় চলতি হিসাব বছরের (২০২৩) প্রথম প্রান্তিকে (জানু-মার্চ) আগের বছরের তুলনায় লোকসান কাটিয়ে ভালো মুনাফা করে দেখিয়েছিল দেশের পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড। সেই ধারাবাহিকতায় কোম্পানিটি দ্বিতীয় প্রান্তিক বা অর্ধবার্ষিকেও ব্যবসা চাঙ্গা হওয়ার প্রত্যাশা করছে বলে জানা গেছে। কাঁচামালে খরচ বাড়লেও কোম্পানিটি সিমেন্ট বিক্রি থেকে উচ্চ আয় এবং প্লান্টের ব্যবস্থাপনায় খরচ কম হওয়ার মাধ্যমে ভালো মুনাফা হবে বলে জানিয়েছে। এছাড়া বর্তমানে ছয়টি বড় জাতীয় প্রকল্প চলমান এবং তিনটি বড় প্রকল্প শেষ হয়েছে। এর মধ্যে পদ্মা বহুমুখী সেতুও রয়েছে। তাই শুধু অর্ধবার্ষিকে নয়, চলতি হিসাব বছরে ভালো মুনাফা করবে বলে জানায় কোম্পানিটি। সেই সঙ্গে ভালো মুনাফা হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ভালো লভ্যাংশ পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষ।তথ্যমতে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকার টনপ্রতি সিমেন্ট ক্লিংকার আমদানিতে ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করেছে। টনপ্রতি এই ২০০ টাকা শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাবে ৫০ কেজি সিমেন্টে উৎপাদন খরচ ১৫ টাকা বেড়ে যাবে। ইতোমধ্যে এই খরচ বৃদ্ধির ফলে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট জায়গা ভেদে চাহিদা অনুযায়ী, বস্তাপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে; যা কোম্পানিটির বছরের শুরুর ব্যবসা ধরে রাখতে সাহায্য করবে বলে জানা যায়। কিন্তু অন্য কোম্পানিগুলোর খরচ বাড়লেও দাম না বাড়ায় ব্যবসা কিছুটা কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানা গেছে।এ বিষয়ে কোম্পানির একাধিক কর্তকর্তা জানান, চলতি অর্থবছরে কাঁচামালের খরচ বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে। তাই বর্তমানে বস্তাপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা দাম বাড়াতে হয়েছে। কিন্তু গত বছর দেখা গেছে, অনেক কোম্পানি খরচের তুলনায় সিমেন্টের দাম বৃদ্ধি না করায় তারা লোকসান করেছে; যেটা মূলত বাজার ধরে রাখার জন্য এবং বেশি বিক্রির জন্য। তবে এতে কোম্পানির ক্ষতি হচ্ছে। কোম্পানিগুলো যদি এ বছরেও একই কাজ করে, তবে এভাবে বাজারে অংশ বাড়াতে কোম্পানিগুলোকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। আর এই লোকসান কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘদিন লাগবে। যার প্রভাব পড়বে তালিকাভুক্ত কোম্পানির বিনিয়োগকারীদের ওপর।হাইডেলবার্গ সেই শঙ্কা থেকে বাইরে রয়েছে জানিয়ে তারা বলেন, আমরা উৎপাদন খরচের সঙ্গে সমন্বয় করে পণ্যের দাম বৃদ্ধি করি এবং কমাই যাতে কোম্পানির মুনাফা মার্জিন স্বাভাবিক থাকে। তাই খরচ বাড়লেও পণ্যের দাম বাড়ায় ব্যবসা ভালো হবে। তবে অন্য কোম্পানিগুলো বাড়ালে আমাদের ব্যবসা আরও চাঙ্গা হবে। কারণ পণ্যের মান অনুযায়ী আমাদের সিমেন্টের দাম স্বাভাবিক থাকে। যদি অন্য কোম্পানিগুলো বাজারে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধিতে দাম না বাড়ায়, তবে আমাদের ব্যবসা কিছুটা কম হলেও ভালো হবে বলে আশা করছি।এদিকে প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির বিক্রি হয়েছে ৫৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে উৎপাদন খরচ বাদে নিট ব্যবসা হয়েছে ৮৬ কোটি টাকার বেশি। এ সময় কোম্পানির পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৫৬ কোটি টাকার বেশি। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছে প্রায় ৩৯ কোটি টাকা। এদিকে আগের বছরের একই সময় কোম্পানির ব্যবসা হয়েছিল ২৮ কোটি টাকার, যা এ বছরের থেকে ৫৮ কোটি টাকা কম। ফলে সব খরচ বাদে কোম্পানিটির সে সময় লোকসান হয়। কিন্তু এ বছর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ৯ টাকা ৮২ পয়সা। সেখান থেকে আগের বছরের লোকসান ২ টাকা ৯৭ পয়সা। লোকসান বাদ দিলে মুনাফা দাঁড়ায় ৬ টাকা ৮৫ পয়সায়।এ সময় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভি) আগের বছরের থেকে ৬ টাকা ৮৪ পয়সা বেশি হয়েছে। সমাপ্ত প্রান্তিকে এনএভি দাঁড়িয়েছে ৬৬ টাকা ৯১ পয়সায়, যা আগের বছরে ছিল ৬০ টাকা ৭ পয়সা। এছাড়া আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থের পরিমাণও বেড়েছে সাড়ে ৭ টাকার বেশি। প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থ দাঁড়ায় ২৭ টাকা ৪৯ পয়সায়, যা আগের বছরে ছিল ১৯ টাকা ৮৪ পয়সা।

Share this news