বসুন্ধরা পেপারের শেয়ারদর তদন্ত করার নির্দেশ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বসুন্ধরা বসুন্ধরা পেপার মিলসের শেয়ারদর গত ১১ আগস্ট ছিল ৫০ টাকার নিচে। গত ৬ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির শেয়ারদর ৭৩ টাকায় উঠেছে। ১৭ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৩৪ টাকার কিছু বেশি বা ৪৬ শতাংশের বেশি।শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এমন দর বৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করেছে। এ কারণে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-কে কোম্পানিটির শেয়ারদর বৃদ্ধির পেছনে কোনো কারসাজি আছে কিনা, তা তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম সংবাদ মাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘এটা একটা রুটিন ওয়ার্ক। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিএসইসির পক্ষ থেকে শেয়ারদর ও ভলিউম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য বলা হয়েছে, কোনো অনিয়ম আছে কি না সেটা জানার জন্য। এটা বিশেষ কোনো তদন্ত নির্দেশনা নয়।’বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেড ২০১৮ সালে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে ৮০ টাকায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি করে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ১০ শতাংশ ছাড়ে ৭২ টাকায় শেয়ারটি পায়। প্রথম দিন শেয়ারটি লেনদেন হয়েছিল ১৪০ টাকায়। এরপর ক্রমাগত দর হারাতে হারাতে এক পর্যায়ে চলে আসে ৪০ টাকার নিচে।তবে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হতে প্রতিষ্ঠানটির ২৫ শতাংশ শেয়ার কিনতে বসুন্ধরা গ্রুপ প্রস্তাব দেয়ার পর থেকে হারানো দর ফিরে পেতে শুরু করে বসুন্ধরা পেপার মিলস।বাজার তথ্য বলছে, গত ১১ আগস্ট কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৪৯ টাকা ৭০ পয়সায়। ৬ সেপ্টেম্বর দর বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩ টাকা ১০ পয়সা। দরের এ উত্থান অস্বাভাবিক কি না, সেটি ভাবতে থাকে বিএসইসি। তবে আজ সোমবার দর সংশোধন হয়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ টাকা ৮০ পয়সায়।এদিকে, কোম্পানিটির শেয়ারদর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ডিএসইর পক্ষ থেকে কোম্পানির কাছে এর কারণ জানতে চায়। এর জবাবে ৪ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের কাছে দর বৃদ্ধির মূল্য সংবেদনশীল কোনো তথ্য নেই।তবে বসুন্ধরা পেপার মিলসের চেয়ে আরও অনেক কোম্পানির শেয়ারদর রাতারাতি ফুলেফেঁপে কলাগাছ বনেছে। সেগুলো নিয়ে বিএসইসির কোনো মাথা ব্যাথা নেই। অথচ এ কোম্পানিটির দর মাত্র লিষ্টিং প্রাইসে উঠেনামা শুরু করেছে। তারপরও নিয়ন্ত্রক সংস্থার গাত্রদাহ শুরু হয়েছে, এমনই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিনিয়োগকারীরা।কোম্পানিটির লভ্যাংশের ইতিহাসও খুব একটা খারাপ নয়। ২০১৮ সালে তালিকাভুক্ত বসুন্ধরা পেপার মিলস ২০১৮ সালে ২০ শতাংশ ক্যাশ, ২০১৯ সালে ১৫ শতাংশ ক্যাশ, ২০১৯ সালে ১৫ শতাংশ ক্যাশ, ২০২০ সালে ১০ শতাংশ ক্যাশ এবং ২০২০ সালে ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে।কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১৭৩ কোটি ৭৯ লাখ ১০ হাজার টাকা। বিপরীতে রিজার্ভ রয়েছে ৪৬৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।