ব্লক মার্কেটে ইসলামী ব্যাংকের বড় অঙ্কের শেয়ারের হাতবদল

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ‘ব্লক মার্কেটে’ গতকাল বুধবার শতকোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। সেই লেনদেনের ওপর ভর করে ডিএসইতে দিন শেষে সার্বিক লেনদেন ৮৯০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ফলে প্রায় এক মাস পর ঢাকার বাজারে মোটামুটি বড় লেনদেন হলো। এর আগে ১২ জুন ডিএসইতে ৯৮১ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ডিএসইর ‘ব্লক মার্কেটে’ শতকোটি টাকার যে লেনদেন হয়েছে, তার বড় অংশই ছিল ইসলামী ব্যাংকের। ব্যাংকটির ৬০ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়, যা সংখ্যায় ১ কোটি ৮৫ লাখ। প্রতিটি শেয়ার ৩২ টাকা ৬০ পয়সায় অর্থাৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বেঁধে দেওয়া ফ্লোর প্রাইসে হাতবদল হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক ছাড়া ব্লক মার্কেটে উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে রূপালী লাইফ ইনস্যুরেন্স, সিমটেক্স ও আইপিডিসির। এর মধ্যে রূপালী লাইফের ৯ কোটি, সিমটেক্সের ৪ কোটি ও আইপিডিসির প্রায় ৩ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। বাজারসংশ্লিষ্ট একাধিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন অনেকেই নিজেদের মধ্যে শেয়ারের হাতবদল করতে ব্লক মার্কেট ব্যবহার করছেন। বড় প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা একজনের এক বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব থেকে অন্যজনের বিও হিসাবে শেয়ার স্থানান্তরে ব্লক মার্কেটকে বেছে নেয়। তাতে কৃত্রিমভাবে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ বাড়ে। ব্লক মার্কেট ও সাধারণ বাজারের মধ্যে বড় পার্থক্য হচ্ছে, সাধারণ বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা ও শেয়ারের দাম বাজারের চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। আর ব্লক মার্কেটে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই থাকে পূর্বপরিচিত এবং শেয়ারের দামও আগেই ঠিক করা থাকে। শুধু ব্লক মার্কেটে লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ার হাতবদলের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।শেয়ারবাজারে গতকাল নতুন করে বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস ভেঙেছে। তাদের লেনদেনের পরিমাণও ছিল বেশি। যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম ফ্লোর প্রাইসের ওপরে উঠে এসেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ড্রাগন সোয়েটার ও স্পিনিং, আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি, ম্যাকসন্স স্পিনিং ও বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস (বিবিএস)। এসব কোম্পানি গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় ছিল। ইদানীং দেখা যাচ্ছে যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম ফ্লোর প্রাইস ভাঙছে, সেগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। ফলে কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দামও বাড়ছে দ্রুত। তবে অপেক্ষাকৃত কম দামি শেয়ারের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে, সেটিই বিবেচনায় রাখার বিষয়।ডিএসইতে গতকালও লেনদেন ও মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ স্থানটি দখলে রেখেছে ফু-ওয়াং ফুড। এদিন কোম্পানিটির ৫৭ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। প্রতিটি শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বা ২ টাকা ৬০ পয়সা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ টাকায়। ২ জুলাইও এ শেয়ারের দাম ২৩ টাকা ৫০ পয়সায় ফ্লোর প্রাইসে আটকে ছিল। গত তিন কার্যদিবসে ডিএসইতে ফু-ওয়াং ফুডের প্রায় দেড় শ কোটি টাকার শেয়ারের হাতবদল হয়। কোম্পানিটির শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে ঋণ সুবিধা মেলে না, নগদ অর্থেই কিনতে হয়। তা সত্ত্বেও বড় অঙ্কের লেনদেন হচ্ছে বাজারে।