বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ পাঠানোর বিধিমালা সহজ করছে বিএসইসি
পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড নিজ দেশে পাঠানোর বিধিমালা সহজ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন নিয়মে বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ পাঠানোর সময়সীমা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছ থেকে দ্বৈত কর পরিহার (ডিটিএ) সনদ পাওয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত বিএসইসির কমিশন সভায় এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে এনবিআর থেকে ডিটিএ সনদ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অনিবাসী বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের ঘোষিত বা অনুমোদিত লভ্যাংশ পাঠাতে হবে। তবে পুরো প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই সম্পন্ন করতে হবে। বিএসইসির মতে, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ পাঠানোর ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর দীর্ঘদিনের বিধিবিধানগত জটিলতা কমবে।বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ পরিশোধের পাশাপাশি লভ্যাংশ বিতরণ-সংক্রান্ত ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ জমা দেওয়ার নিয়মেও পরিবর্তন এনেছে বিএসইসি।সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমে স্থানীয় বা দেশীয় শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে লভ্যাংশ বিতরণ সম্পন্ন করতে হবে। এরপর কোম্পানিকে একটি প্রাথমিক লভ্যাংশ কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে হবে।পরবর্তীতে বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের ব্যাংক হিসাবে লভ্যাংশের অর্থ পাঠানোর পর রেমিট্যান্স সম্পন্ন হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বিএসইসি ও সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জে চূড়ান্ত লভ্যাংশ কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে হবে।এর আগে এনবিআর থেকে ডিটিএ সনদ পেতে দেরি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ পাঠাতে গিয়ে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে জটিলতার মুখে পড়তে হতো। অনেক ক্ষেত্রে কর-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতে পাওয়ার আগেই লভ্যাংশ পরিশোধের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়ে যেত।নতুন নিয়মে ডিটিএ সনদ পাওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের সময় গণনা করায় কর-সংক্রান্ত নথিপত্র পাওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে লভ্যাংশ পরিশোধের সময়সীমার মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরি হবে বলে আশা করছে বিএসইসি।বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই কাঠামো বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ পরিশোধ প্রক্রিয়া সহজ করবে। পাশাপাশি মূলধন ও মুনাফা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়তে পারে।