আড়াই বছর পর উৎপাদনে ফিরছে রতনপুর স্টিল

Date: 2023-06-07 21:00:28
আড়াই বছর পর উৎপাদনে ফিরছে রতনপুর স্টিল
অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর পর উৎপাদনে ফিরছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড (আরএসআরএম)। এর আগে ২০২১ সালের শুরুতে যান্ত্রিক ক্রুটি ও নানা কারণে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।দ্বিতীয় প্রজন্মের কোম্পানি আরএসআরএম বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে ১৯৮৬ সালে। এমএস রড উৎপাদনে নিয়োজিত কোম্পানিটির কারখানা চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী রোডে অবস্থিত। বছরে প্রায় তিন লাখ টন রড উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে এই কারখানার। উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত হাতিরঝিল, উড়াল সড়কসহ বড় বড় প্রকল্পের স্থাপনা নির্মাণে নিয়মিত সরবরাহ হয়েছে আরএসআরএম ব্র্যান্ডের রড।ব্যবসা পরিচালনায় পণ্যের গুণগত মানের সুনাম থাকায় প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের সর্বোচ্চ পুরস্কার, ডিঅ্যান্ডবি করপোরেট পুরস্কার, ইনস্টিটিউট আব চাটার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক করপোরেট গভর্ন্যান্স কমপ্লায়েন্সের ওপর ভিত্তি করে ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে ব্রোঞ্জসহ বেশকিছু পুরস্কার অর্জন ও স্বীকৃতি লাভ করে।আরএসআরএম কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে ২০২১ সালের শুরুতে কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ আমদানি করতে না পারায় উৎপাদন কার্যক্রম পেছাতে থাকে। এক পর্যায়ে বিদ্যুতের বকেয়া বিল এবং নানা সংকটের কারণে কোম্পানিটি আর উৎপাদনে ফিরতে পারেনি।উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার এক পর্যায়ে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কোম্পানিটির উৎপাদন চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। বিএসইসির নানা উদ্যোগে অবশেষে প্রায় আড়াই বছর বন্ধ থাকার পর কোম্পানিটি ফের উৎপাদনে ফিরছে।কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানির পরিচালকরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সংগ্রহ করছেন। ইতোমধ্যে পরিচালকরা কিছু ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সরবরাহ করেছেন। যারফলে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়েছে এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রণাংশ সংগ্রহ করে কারখানাটি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সরবরাহের বিষয়ে কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ মঈন উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি শেয়ারনিউজের প্রতিনিধিকে জানান, কোম্পানির পরিচালকরা ইতোমধ্যে কিছু ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সরবরাহ করেছেন। যা দিয়ে কারখানাটির বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রণাংস প্রতিস্থাপন করে কারখানাটি উৎপাদনের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখন কাঁচামালের টাকা পেলেই উৎপাদন শুরু করা হবে।কখন কারখানাটির উৎপাদন শুরু করা হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে কোম্পানি সচিব বলেন, ‘যেকোনো সময়ই উৎপাদন শুরু হতে পারে।’কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, আরএসআরএম স্টিলের উদ্যোক্তরা ইতোমধ্যে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ৪০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছেন। এছাড়া, কারখানাটিকে উৎপাদনে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় মেরামত ও সংস্কার কাজও ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।দীর্ঘ আড়াই বছর পর কোম্পানিটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরছে- এমন খবরে কারখানার আশেপাশে বাসিন্দাদের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যারা কারখানাটিতে চাকুরী করতেন, তাদের মনে নতুন করে আশা জাগছে।এদিকে, শেয়ারবাজারে কোম্পানিটি পুনরায় উৎপাদনে আসার কথা বলাবলি হতে শুরু করেছে। যে কারণে দীর্ঘদিন ১৭ টাকার নিচে ফ্লোর প্রাইসে থাকা আরএসআরএমের শেয়ার নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছে। এতে একদিকে কোম্পানিটির শেয়ারের লেনদেন বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে শেয়ারদরও ধীরে ধীরে ইতিবাচক প্রবণতায় অগ্রসর হচ্ছে। সর্বশেষ আজ বুধবার (০৭ জুন) কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২০ টাকা ৩০ পয়সায়। লেনদেন হয়েছে ৪ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি শেয়ার। গত ০১ জুন শেয়ারটি ২২ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে শেয়ারবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে তালিকাভুক্ত হয় আরএসআরএম স্টিল। প্রতিটি শেয়ার ৩০ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৪০ টাকায় ইস্যু করা হয়। শেয়ারবাজারে আসার পর ভালো মুনাফা ও ডিভিডেন্ডের কারণে কোম্পানিটির শেয়ার ‘ব্লু চিপ’ হিসাবে পরিচিত ছিল। কিন্তু পরে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড দিতে না পারায় শেয়ারটির কদর কমে যায়।তথ্য পর্যায়লোচনায় দেখা যায়, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর কোম্পানিটির শেয়ার ১০০ টাকার ওপরে লেনদেন হয়েছে। এমনকি উৎপাদন বন্ধ থাকা অবস্থায়ও গত দুই বছরের মধ্যে শেয়ারটি ৭৫ টাকার ওপরে লেনদেন হয়েছে। এই সময়ে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে ১৬ টাকায়। শেয়ারটির ফ্লোর প্রাইস ১৬ টাকা ৩০ পয়সা।ডিভিডেন্ড তথ্য পর্যায়লোচনায় দেখা যায়, ২০১৪ সালে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। এরপর ২০১৫ সালে ২০ শতাংশ, ২০১৬ সালে ২০ শতাংশ, ২০১৭ সালে ২২ শতাংশ, ২০১৮ সালে ১২ শতাংশ এবং ২০১৯ সালে ১২ শতাংশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আগের বছর ২০২০ সালে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে ২০২১ ও ২০২২ সালে কোনো ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি।ডিএসইর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ি, কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১০১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বিপরীতে রিজার্ভ রয়েছে ২৭৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১০ কোটি ১১ লাখ ৮৯ হাজার। এরমধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে রয়েছে ২৯.৯৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৩.৬৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৬.৪৪ শতাংশ শেয়ার।

Share this news