আইপিও ও বন্ড তালিকাভুক্তিতে লিস্টিং ফি কমালো ডিএসই

Date: 2026-09-01 06:00:04
আইপিও ও বন্ড তালিকাভুক্তিতে লিস্টিং ফি কমালো ডিএসই
পুঁজিবাজারে ভালো মানের কোম্পানি ও বন্ডের তালিকাভুক্তি বাড়াতে লিস্টিং ফিতে বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও এবং সরাসরি তালিকাভুক্তিতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করতে নির্ধারিত লিস্টিং ফি সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ কমিয়ে ১৫ লাখ টাকার মধ্যে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে এই কমানো ফিতেও আরও ৫০ শতাংশ ছাড় মিলবে।সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) আয়োজিত ‘দ্য কারেন্ট স্টেট অব দ্য বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় এসব তথ্য জানান ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। এতে বিএসইসির কমিশনাররা এবং ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম।ডিএসইর চেয়ারম্যান বলেন, নতুন কোম্পানি ও বন্ড তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে উচ্চ লিস্টিং ফি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন ইস্যুয়ারদের উৎসাহিত করতেই ফি কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩১ মার্চ ২০২৭-এর মধ্যে আইপিও বা সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করলে নির্ধারিত ফিতেও আরও ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে।পুঁজিবাজারের লেনদেন ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন ডিএসইর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, লেনদেনের গতি বাড়াতে ‘স্ট্রিপ নেটিং’ ও ‘টি+১’ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালুর প্রযুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রক প্রস্তুতির অনুমোদন সম্পন্ন হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এসব ব্যবস্থা কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।এ ছাড়া বিশ্বমানের তথ্যসেবা নিশ্চিত করতে ডিএসইর ওয়েবসাইট নতুনভাবে সাজানোর কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।বন্ডের তালিকাভুক্তি বাড়াতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ডিএসইর চেয়ারম্যান জানান, বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী বন্ড অনুমোদনের ক্ষেত্রে তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতাগুলো দূর করার কাজ চলছে।এদিকে, ডিএসইর বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। তবে এ উদ্যোগের কারণে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর নিজস্ব দায়বদ্ধতা কোনোভাবেই কমবে না বলে জানান তিনি।ডিএসইর এমডি নুজহাত আনোয়ার বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও সুশাসন জোরদারে ডিএসই ও বিএসইসি সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভালো মানের আইপিও আনা, বিনামূল্যের মার্জিন ও সিসি হিসাব পরিচালনা এবং আগামী পাঁচ বছরের কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ চলছে।বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, লিস্টিং ফি কমানোর পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অতিরিক্ত ছাড় দেওয়ার উদ্যোগ পুঁজিবাজারে ভালো মানের কোম্পানি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে আগ্রহ বাড়াতে পারে।

Share this news