৯ বছরে আইপিও তহবিলের ৮৫ শতাংশ অর্থ ব্যয়

Date: 2023-07-08 21:00:09
৯ বছরে আইপিও তহবিলের ৮৫ শতাংশ অর্থ ব্যয়
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন সাপেক্ষে ২০১৪ সালের ১২ এপ্রিল সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫ কোটি ৫০ লাখ সাধারণ শেয়ার ইস্যু করে ১৬৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে তালিকাভুক্ত ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের কোম্পানি দ্য পেনিনসুলা চিটাগং লিমিটেড। অনুমোদিত প্রসপেক্টাসে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে সংগৃহীত এ অর্থ ব্যবহারে প্রথমে কোম্পানিটিকে ২০১৬ সালের ৩০ জুলাই পর্যন্ত সময় দেয়া হলেও পরে দফায় দফায় তা বাড়িয়ে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। গত ৩১ মে শেষে অর্থাৎ নয় বছরেরও বেশি সময়ে কোম্পানিটি আইপিও তহবিলের ৮৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ ব্যবহার করতে পেরেছে। এখনো এ তহবিলের ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ অব্যবহৃত রয়ে গেছে।কোম্পানির সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুসারে, দ্য পেনিনসুলা চিটাগংয়ের আইপিও তহবিলের ১৬৫ কোটি টাকার মধ্যে ১৪০ কোটি ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৫৫৫ টাকা গত ৩১ মে শেষে ব্যবহার সম্পন্ন হয়েছে। এখনো এ তহবিলের ২৪ কোটি ৯৪ লাখ ৩৬ হাজার ৪৪৫ টাকা অব্যবহৃত রয়েছে। কোম্পানির প্রসপেক্টাস অনুমোদনকালে তাদের হোটেল সম্প্রসারণের জন্য ৭ কোটি টাকা, পেনিনসুলা এয়ারপোর্ট গার্ডেন নির্মাণের জন্য ১৪১ কোটি ৫ লাখ ২৬ হাজার ৭৬৬, দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিশোধের জন্য ১৩ কোটি ২৯ লাখ ৭৩ হাজার ২৩৪ ও আইপিওর ব্যয় নিষ্পত্তির জন্য ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যবহারের অনুমোদন দেয় বিএসইসি। পরে ২০১৫ সালের ২ এপ্রিল বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের পর কমিশনের পুনরায় অনুমোদন নিয়ে এ ব্যয় পরিকল্পনায় সংশোধন আনা হয়। সংশোধন অনসুারে কোম্পানিটি গার্ডেন নির্মাণের অর্থ থেকে ২৪ কোটি ৮১ হাজার ৩২০ টাকা, হোটেল সম্প্রসারণের ৭ কোটি ও আইপিও খাতের ব্যয় থেকে অবশিষ্ট ২ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ৯২৬ টাকাসহ মোট ৩৩ কোটি ৮৬ লাখ ৭২ হাজার ২৪৬ টাকা দিয়ে কোম্পানির স্বল্পমেয়াদি ঋণ পরিশোধের অনুমোদন পায়। অর্থাৎ সংশোধনের পর আইপিও তহবিলের অর্থের ১১৭ কোটি ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৪৪৬ টাকা দিয়ে পেনিনসুলা এয়ারপোর্ট গার্ডেন, ১৩ কোটি ২৯ লাখ ৭৩ হাজার ২৩৪ টাকা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিশোধ, ৩৩ কোটি ৮৬ লাখ ৭২ হাজার ২৪৬ টাকা দিয়ে স্বল্পমেয়াদি ঋণ পরিশোধ ও আইপিও ব্যয়ে ৭৯ লাখ ৯ হাজার ৭৪ টাকা ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া হয় কোম্পানিটিকে। এরই মধ্যে কোম্পানিটি অন্য সব খাতের জন্য বরাদ্দকৃত ব্যয় ব্যবহার সম্পন্ন করলেও গার্ডেন নির্মাণের ব্যয় বাবদ ৩৮ কোটি ৯৬ লাখ ২২ হাজার ৭৯ টাকা ব্যবহার করতে পারেনি। এ অব্যবহৃত অর্থের পরিমাণ গার্ডেন নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের ৩৩ দশমিক ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ কোম্পানিটি তাদের গার্ডেন নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের ৭৮ কোটি ৮ লাখ ২৩ হাজার ৩৬৭ টাকা বা ৬৬ দশমিক ৭১ শতাংশ এখন পর্যন্ত ব্যবহার করেছে। কোম্পানিটি আইপিও তহবিল ব্যবহারে সংশোধন ও সময় বাড়ানোর জন্য মোট পাঁচবার ইজিএম আহ্বান করে শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি নিয়েছে। প্রথমবার ২০১৫ সালের ২ এপ্রিল, দ্বিতীয়বার ২০১৬ সালের ৪ ডিসেম্বর, তৃতীয়বার ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর, চতুর্থবার ২০২০ সালের ১৪ ডিসেম্বর ও সর্বশেষ পঞ্চমবার ২০২২ সালের ২৩ জুন ইজিএম করেছে। এর মধ্যে কেবল প্রথমবার সংশোধন আনা হলেও শেষ চারবারই আইপিও তহবিল ব্যবহারের জন্য সময় বাড়ানোর অনুমোদন নেয়া হয়েছে। শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেয়ার পর প্রত্যেকবার কোম্পানিটি এ বিষয়ে বিএসইসির অনুমোদন নিয়েছে।

Share this news